শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে শ্রুতিধ্বনি বা আগম ধ্বনির উদাহরণ দেখাচ্ছেন
শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে শ্রুতিধ্বনি বা আগম ধ্বনির উদাহরণ দেখাচ্ছেন

শ্রুতিধ্বনি কাকে বলে? আগম ধ্বনি চেনার সহজ কৌশল

শ্রুতিধ্বনি (আগম): সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, উদাহরণ এবং বিগত সালের প্রশ্নোত্তর (সম্পূর্ণ গাইড)

📚 ভূমিকা (Introduction)

প্রিয় শিক্ষার্থী, বাংলা উচ্চারণের একটি মজার বৈশিষ্ট্য হলো—অনেক সময় শব্দের মধ্যে এমন কিছু ধ্বনি ঢুকে যায়, যা মূল শব্দে ছিল না। এই অতিরিক্ত ধ্বনিগুলো শব্দকে সহজে উচ্চারণ করতে সাহায্য করে। ব্যাকরণের ভাষায় এদের বলা হয় শ্রুতিধ্বনি বা আগম ধ্বনি। যেমন—সংস্কৃত রত্ন শব্দটি বাংলায় আমরা প্রায়ই রতন বলি; এখানে অ-ধ্বনিটি নতুন করে ঢুকেছে। আবার বঙ্গ থেকে বাংলা হওয়ার সময় অ বা লা যোগ হয়নি, বরং মাঝে একটি স্বর ঢুকে উচ্চারণ সহজ হয়েছে। পরীক্ষায় এই শ্রুতিধ্বনি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, বিশেষ করে কোন শব্দে শ্রুতিধ্বনি আছে বা কোনটি স্বরাগম/ব্যঞ্জনাগম।

কেন এই অধ্যায় পরীক্ষার জন্য জরুরি?
বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিএস প্রিলিমিনারি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ, এসএসসি-এইচএসসি বোর্ড এবং ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় শ্রুতিধ্বনি থেকে ১-২টি প্রশ্ন আসে। যেমন—

  • [BCS 35th] তে এসেছিল “রত্ন শব্দের শ্রুতিধ্বনি কোনটি?”
  • [Primary 2022] তে এসেছিল “কোনটি আগম ধ্বনির উদাহরণ?”
  • [SSC 2023] তে এসেছিল “বাংলা শব্দে শ্রুতিধ্বনি কোনটি?”
  • [NTRCA 2020] তে এসেছিল “স্বরাগম ও ব্যঞ্জনাগম কী?”

এই অধ্যায়টি খুবই ছোট, কিন্তু নিয়ম জানা না থাকলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আজকের লেকচারে আমরা সহজ সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, ট্রিকস ও উদাহরণের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি শিখব।


🎯 শিখনফল (Learning Objectives)

এই লেকচার শেষে আপনি—

  1. শ্রুতিধ্বনি বা আগম কী তা সংজ্ঞাসহ বুঝতে পারবেন।
  2. স্বরাগম ও ব্যঞ্জনাগমের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবেন।
  3. কোন শব্দে শ্রুতিধ্বনি আছে তা চেনার কৌশল আয়ত্ত করবেন।
  4. বিগত সালের প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারবেন।
  5. সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে পারবেন।

📖 প্রধান আলোচনা (Main Discussion)

১. শ্রুতিধ্বনি কাকে বলে? (Definition of Srutidhoni)

সহজ সংজ্ঞা

শব্দের মূল ধ্বনির সাথে উচ্চারণের সুবিধার জন্য যে অতিরিক্ত ধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে শ্রুতিধ্বনি বা আগম বলে। এটি মূলত স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি হতে পারে। যেমন— রত্ন > রতন, এখানে অ একটি শ্রুতিধ্বনি; স্নান > সিনান (আঞ্চলিক), গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

ভাষাবিদদের মত (Linguistic Reference)

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—
“উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের মধ্যে যে অতিরিক্ত ধ্বনি প্রবেশ করে, তাকে শ্রুতিধ্বনি বা আগম বলে।”

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে—
“বাংলা ভাষায় যুক্ত ব্যঞ্জনের বোঝা কমাতে যে স্বর বা ব্যঞ্জন আগে-পরে বা মাঝে যুক্ত হয়, ভাষাবিজ্ঞানে তাকে এপেনথেসিস বা শ্রুতিধ্বনি বলা হয়।”
(সূত্র: The Origin and Development of the Bengali Language)

এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী—
“উচ্চারণ সহজ করার জন্য শব্দের মধ্যে যে অতিরিক্ত ধ্বনি আনা হয়, তাকে শ্রুতিধ্বনি বা আগম বলে।”

ভাষাবিদদের মতে—
“শ্রুতিধ্বনি ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ফল; এটি শব্দকে শ্রুতিমধুর ও সহজে উচ্চারণযোগ্য করে।”


২. শ্রুতিধ্বনির প্রকারভেদ (Types of Srutidhoni)

শ্রুতিধ্বনি প্রধানত দুই প্রকার:

ক) স্বরাগম (Insertion of Vowel)

যখন শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে স্বরাগম বলে।
উদাহরণ:

  • রত্ন > রতন (অ-এর আগম)
  • স্নান > সিনান (ই-এর আগম)
  • গ্রাম > গেরাম (এ-এর আগম)
  • প্রীতি > পিরিতি (ই-এর আগম)
  • ক্লেশ > কিলেশ (ই-এর আগম)

খ) ব্যঞ্জনাগম (Insertion of Consonant)

যখন শব্দের মধ্যে ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে ব্যঞ্জনাগম বলে।
উদাহরণ:

  • স্ত্রী > ইস্ত্রি (ই + স-এর আগম, তবে এখানে মূলত স্বর ও ব্যঞ্জন দুটোই)
  • স্কুল > ইস্কুল (ই + স)
  • স্তব > থস্তব (থ-এর আগম? আসলে স্তব > স্তব-ই, ব্যঞ্জনাগম কম)
  • স্ফুর > ফুসফুর (ফ-এর পুনরাবৃত্তি)
  • স্নেহ > সিনেহ (স্বরাগম, ব্যঞ্জন নয়)

বিঃদ্র: বাংলায় ব্যঞ্জনাগম তুলনামূলক কম; স্বরাগম-ই বেশি দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বর ও ব্যঞ্জন একসাথে আগম হয়, যেমন— স্ত্রী > ইস্ত্রি (এখানে ‘ই’ স্বর এবং ‘স’ ব্যঞ্জন দুটোই মূলত যুক্ত হয়, তবে ‘স’ ছিলই, উচ্চারণ সুবিধার জন্য ‘ই’ আগে বসে)।


৩. শ্রুতিধ্বনি চেনার উপায় (Identification Techniques)

সূত্র ১: মূল শব্দ ও পরিবর্তিত শব্দ তুলনা

  • মূল শব্দটি সংস্কৃত বা তৎসম।
  • বাংলায় উচ্চারণে অতিরিক্ত স্বর বা ব্যঞ্জন ঢুকেছে।
  • যেমন— সংস্কৃত রত্ন → বাংলা রতন। মূল শব্দে ত্ন যুক্ত ব্যঞ্জন ছিল, উচ্চারণ কঠিন ছিল, তাই অ ঢুকে তন হলো।

সূত্র ২: যুক্ত ব্যঞ্জন ভাঙা

  • যুক্ত ব্যঞ্জন (ত্ন, ক্ষ, জ্ঞ, স্ন, স্ট, স্ত, গ্র, প্র, ক্র ইত্যাদি) উচ্চারণ সহজ করতে স্বর ঢোকে।
  • ক্ষ > খ (ক্ষমা > খমা, আঞ্চলিক)
  • জ্ঞ > গ্যাঁ (জ্ঞান > গ্যাঁন, আঞ্চলিক)
  • স্ন > সিন (স্নান > সিনান)
  • স্ত > ইস্ত (স্ত্রী > ইস্ত্রি, স্কুল > ইস্কুল)

সূত্র ৩: শব্দের আদিতে স্বরযুক্ত ব্যঞ্জন

  • ইংরেজি বা বিদেশি শব্দের শুরুতে স্ক, স্ট, স্প, স্ম থাকলে বাংলায় ই বা অ যুক্ত হয়।
  • স্কুল > ইস্কুল
  • স্টেশন > ইস্টিশন (আঞ্চলিক)
  • স্মার্ট > সিমার্ট (আঞ্চলিক)

৪. শ্রুতিধ্বনির উদাহরণ (Examples)

ক) স্বরাগমের উদাহরণ (২০+)

মূল শব্দশ্রুতিধ্বনি সহ রূপআগম ধ্বনিব্যাখ্যা
রত্নরতনঅযুক্ত ব্যঞ্জন ‘ত্ন’ ভেঙে ‘অ’ ঢুকেছে। [BCS 35th]
স্নানসিনানই‘স্ন’ এর মাঝে ‘ই’ আগম।
গ্রামগেরামএ‘গ্র’ এর মাঝে ‘এ’ আগম।
প্রীতিপিরিতিই‘প্র’ এর মাঝে ‘ই’ আগম।
ক্লেশকিলেশই‘ক্ল’ এর মাঝে ‘ই’ আগম।
ক্ষমাখমাঅ‘ক্ষ’ ভেঙে ‘খ’ + ‘অ’।
জ্ঞানগ্যাঁনঅ্যা‘জ্ঞ’ ভেঙে ‘গ্যাঁ’ + ‘অ্যা’।
স্ত্রীইস্ত্রিই‘স্ত্র’ আগে ‘ই’ বসেছে।
স্কুলইস্কুলই‘স্ক’ আগে ‘ই’ বসেছে।
স্টেশনইস্টিশনই‘স্ট’ আগে ‘ই’ বসেছে।
স্ফূর্তিফুর্তিঅ‘স্ফূ’ ভেঙে ‘ফু’ + ‘অ’।
স্নেহসিনেহই‘স্ন’ মাঝে ‘ই’।
ত্রাসতিরাসই‘ত্র’ মাঝে ‘ই’।
ক্রোধকিরোধই‘ক্র’ মাঝে ‘ই’।
ব্রতবিরতই‘ব্র’ মাঝে ‘ই’।
শ্লোকশিলোকই‘শ্ল’ মাঝে ‘ই’।
ম্লানমিলানই‘ম্ল’ মাঝে ‘ই’।
ভ্রমভিরমই‘ভ্র’ মাঝে ‘ই’।
ধ্রুবধিরুবই‘ধ্র’ মাঝে ‘ই’।
স্মরণসিমরণই‘স্ম’ মাঝে ‘ই’।
প্লাবনপিলাবনই‘প্ল’ মাঝে ‘ই’।
হ্রদহিরদই‘হ্র’ মাঝে ‘ই’।
দ্রুতদিরুতই‘দ্র’ মাঝে ‘ই’।

খ) ব্যঞ্জনাগমের উদাহরণ (কম, তবে কিছু আছে)

মূল শব্দশ্রুতিধ্বনি সহ রূপআগম ধ্বনিব্যাখ্যা
স্তবথস্তবথ‘স্তব’-এর আগে ‘থ’ যোগ হয় (আঞ্চলিক)।
স্ফুরফুসফুরফ‘ফ’ এর পুনরাবৃত্তি।
ছেলেমিছেলেমিমি‘মি’ ব্যঞ্জনাগম (মূল: ছেলে + আমি?)
কান্নাকান্দনাদ‘কান্না’তে ‘দ’ আগম (আঞ্চলিক)।
শব্দসাব্দব‘শব্দ’-এ ‘ব’ আগম (আঞ্চলিক)।

বিঃদ্র: ব্যঞ্জনাগম বাংলায় কম; স্বরাগমই প্রধান। অনেক সময় স্বরাগমের সাথে ব্যঞ্জনাগমও মিশে থাকে, যেমন ইস্ত্রি-তে ‘ই’ স্বরাগম, কিন্তু ‘স’ আগে থেকেই আছে। তাই এটাকে বিশুদ্ধ ব্যঞ্জনাগম বলা যায় না। সাধারণভাবে পরীক্ষায় স্বরাগম-ই বেশি আসে।


🧠 গ্রামাটিক্যাল ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল (Rules & Tricks)

Trick 1: শ্রুতিধ্বনি চেনার মূলমন্ত্র

“মূল শব্দে ছিল না, উচ্চারণে ঢুকেছে—এটাই শ্রুতিধ্বনি।”
অর্থাৎ, সংস্কৃত বা বিদেশি মূল শব্দের সাথে বাংলা উচ্চারণে যে নতুন ধ্বনি যোগ হয়, সেটিই শ্রুতিধ্বনি।

Trick 2: যুক্ত ব্যঞ্জন ভাঙার নিয়ম

“যুক্ত ব্যঞ্জন কঠিন, তাই মাঝে স্বর ঢোকে; ত্ন > তন, স্ন > সিন, গ্র > গের।”
মনে রাখুন: র, ল, ব, স, শ, ষ, হ, ম, ন ইত্যাদি ব্যঞ্জনের সাথে অন্য ব্যঞ্জন যুক্ত হলে প্রায়ই ই/অ/এ ঢোকে।

Trick 3: বিদেশি শব্দের শুরুতে ‘ই’ আগম

“স্ক, স্ট, স্প, স্ম—শুরুতে এলে আগে ‘ই’ বসে; স্কুল > ইস্কুল।”
এটি বাংলা উচ্চারণের সহজ নিয়ম, তবে এখন শিক্ষিত সমাজে এই আগম এড়িয়ে চলা হয়।

Trick 4: শ্রুতিধ্বনি বনাম অপিনিহিতি

  • শ্রুতিধ্বনি (আগম): নতুন ধ্বনি যোগ হয়। যেমন— রত্ন > রতন।
  • অপিনিহিতি (ধ্বনি পরিবর্তন): ধ্বনি বদলে যায়, যোগ হয় না। যেমন— সত্য > সইত্য (এখানে ‘ত’ বদলে ‘ই’ হয়ে গেছে, নতুন যোগ নয়)।
    শর্টকাট:

“যোগ হলে আগম, বদল হলে অপিনিহিতি।”

⚠️ ভুল যেখানে হয় (Common Mistakes)

  1. ‘বাংলা’ শব্দে শ্রুতিধ্বনি ভাবা: আসলে বঙ্গ + লা = বাংলা; এখানে অ-এর আগম হয়েছে? না, বঙ্গ থেকে বাংলা হওয়ার সময় অ স্বরটি ইতিমধ্যে ছিল, কেবল ঙ্গ ভেঙে ঙ + ল হয়েছে, নতুন ধ্বনি যোগ হয়নি। তবে অনেকে মনে করেন এখানে শ্রুতিধ্বনি আছে, কারণ ‘ঙ্গ’ উচ্চারণে ‘অ’ ঢোকে। এটা বিতর্কিত; প্রমিত মতে শ্রুতিধ্বনি ধরা হয় না, বরং ধ্বনি পরিবর্তন।
  2. ‘রতন’-এর ‘অ’ কে মূল ভাবা: এটা শ্রুতিধ্বনি, মূল শব্দ রত্ন।
  3. ‘ইস্কুল’ কে অশুদ্ধ বলে এড়িয়ে যাওয়া: গ্রামীণ বা কথ্য বাংলায় এটি শ্রুতিধ্বনি, মান্য বাংলায় স্কুল-ই শুদ্ধ।
  4. ব্যঞ্জনাগম বেশি ভাবা: বাংলায় ব্যঞ্জনাগম খুবই কম; স্বরাগমই প্রধান।
  5. ‘স্ত্রী > ইস্ত্রি’ কে কেবল ব্যঞ্জনাগম ভাবা: আসলে ‘ই’ স্বরাগম এবং ‘স’ আগে থেকেই ছিল; তাই এটি মিশ্র আগম।

✍️ অনুশীলনী (Exercise)

A) বিগত সালের প্রশ্ন (MCQ)

১। ‘রত্ন’ শব্দের শ্রুতিধ্বনি কোনটি? [BCS 35th]
ক) ই
খ) অ
গ) এ
ঘ) উ

২। নিচের কোনটি শ্রুতিধ্বনির উদাহরণ? [Primary 2022]
ক) পদ্ম > পদ্ম
খ) রত্ন > রতন
গ) সত্য > সইত্য
ঘ) কাজ > কায

৩। ‘স্নান > সিনান’—এখানে কী ধরনের আগম?
ক) ব্যঞ্জনাগম
খ) স্বরাগম
গ) অপিনিহিতি
ঘ) সমীভবন

৪। ‘ইস্কুল’ শব্দে কোন ধরনের শ্রুতিধ্বনি?
ক) ব্যঞ্জনাগম
খ) স্বরাগম
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়

৫। শ্রুতিধ্বনি বলতে বোঝায়—
ক) ধ্বনির পরিবর্তন
খ) ধ্বনির লোপ
গ) ধ্বনির আগম
ঘ) ধ্বনির সমীভবন

৬। ‘গ্রাম > গেরাম’—কোন স্বর আগম হয়েছে?
ক) অ
খ) ই
গ) এ
ঘ) ও

৭। নিচের কোনটি ব্যঞ্জনাগমের উদাহরণ?
ক) ক্ষমা > খমা
খ) স্ত্রী > ইস্ত্রি
গ) স্নান > সিনান
ঘ) প্রীতি > পিরিতি

৮। অপিনিহিতি ও শ্রুতিধ্বনির পার্থক্য কী?
ক) শ্রুতিধ্বনিতে ধ্বনি যোগ হয়, অপিনিহিতিতে বদল হয়
খ) শ্রুতিধ্বনিতে ধ্বনি বদল হয়, অপিনিহিতিতে যোগ হয়
গ) দুটোই এক
ঘ) দুটোই লোপ

৯। ‘স্মরণ > সিমরণ’—এখানে ‘ই’ কী?
ক) শ্রুতিধ্বনি
খ) মূল ধ্বনি
গ) অপিনিহিতি
ঘ) সমীভবন

১০। বাংলা ভাষায় প্রধানত কোন ধরনের শ্রুতিধ্বনি বেশি?
ক) ব্যঞ্জনাগম
খ) স্বরাগম
গ) উভয়ই সমান
ঘ) কোনোটিই নয়

১১। ‘ক্লেশ > কিলেশ’—এখানে কোন স্বর আগম?
ক) অ
খ) ই
গ) এ
ঘ) উ

১২। নিচের কোনটি শ্রুতিধ্বনি নয়?
ক) রত্ন > রতন
খ) স্নান > সিনান
গ) সত্য > সইত্য
ঘ) গ্রাম > গেরাম

১৩। ‘স্ত্রী > ইস্ত্রি’—এখানে ‘ই’ কী?
ক) ব্যঞ্জনাগম
খ) স্বরাগম
গ) অপিনিহিতি
ঘ) লোপ

১৪। শ্রুতিধ্বনির অপর নাম কী?
ক) আগম
খ) লোপ
গ) পরিবর্তন
ঘ) সম্প্রসারণ

১৫। ‘ক্ষমা > খমা’—এখানে কী ঘটেছে?
ক) ব্যঞ্জনাগম
খ) স্বরাগম
গ) ধ্বনি লোপ
ঘ) অপিনিহিতি

B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Questions)

১। শ্রুতিধ্বনি বা আগম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের মধ্যে যে অতিরিক্ত ধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে শ্রুতিধ্বনি বা আগম বলে। যেমন— রত্ন > রতন (অ-এর আগম), স্নান > সিনান (ই-এর আগম)।

২। স্বরাগম ও ব্যঞ্জনাগম কাকে বলে?
উত্তর: শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে স্বরাগম বলে (যেমন: গ্রাম > গেরাম)। ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত হলে তাকে ব্যঞ্জনাগম বলে (যেমন: স্তব > থস্তব)।

৩। শ্রুতিধ্বনি ও অপিনিহিতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: শ্রুতিধ্বনিতে শব্দে নতুন ধ্বনি যোগ হয় (রত্ন > রতন); অপিনিহিতিতে ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে, নতুন যোগ নয় (সত্য > সইত্য)।

৪। বিদেশি শব্দে শ্রুতিধ্বনির উদাহরণ দাও।
উত্তর: স্কুল > ইস্কুল (ই-এর আগম), স্টেশন > ইস্টিশন (ই-এর আগম), স্মার্ট > সিমার্ট (ই-এর আগম)।

৫। বাংলায় কোন ধরনের শ্রুতিধ্বনি বেশি দেখা যায়?
উত্তর: বাংলায় স্বরাগমই বেশি দেখা যায়। যুক্ত ব্যঞ্জন ভেঙে উচ্চারণ সহজ করতে সাধারণত ই, অ, এ স্বর যুক্ত হয়। ব্যঞ্জনাগম খুবই কম।

৬। ‘রত্ন’ থেকে ‘রতন’ কীভাবে হলো?
উত্তর: ‘রত্ন’ শব্দের ‘ত্ন’ যুক্ত ব্যঞ্জন উচ্চারণে কঠিন ছিল, তাই মাঝে ‘অ’ স্বর ঢুকে ‘রতন’ হয়। এটি স্বরাগমের উদাহরণ।

৭। শ্রুতিধ্বনি চেনার সহজ উপায় কী?
উত্তর: মূল শব্দ ও পরিবর্তিত শব্দ তুলনা করলে যদি দেখা যায় কোনো নতুন স্বর বা ব্যঞ্জন যোগ হয়েছে, তবে সেটি শ্রুতিধ্বনি। যেমন— মূল ‘স্নান’, বাংলায় ‘সিনান’—এখানে ‘ই’ যোগ হয়েছে।

C) উত্তরমালা (Answer Key with Explanation)

১. খ) অ
ব্যাখ্যা: রত্ন > রতন, এখানে ‘অ’ আগম।

২. খ) রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা: ‘রতন’-এ ‘অ’ যোগ হয়েছে।

৩. খ) স্বরাগম
ব্যাখ্যা: ‘স্নান’-এ ‘ই’ স্বর যোগ হয়েছে।

৪. খ) স্বরাগম
ব্যাখ্যা: ‘ইস্কুল’-এ ‘ই’ স্বর আগম, ‘স’ আগে থেকেই ছিল।

৫. গ) ধ্বনির আগম
ব্যাখ্যা: শ্রুতিধ্বনি মানে অতিরিক্ত ধ্বনি যোগ হওয়া।

৬. গ) এ
ব্যাখ্যা: গ্রাম > গেরাম, ‘এ’ যোগ।

৭. খ) স্ত্রী > ইস্ত্রি
ব্যাখ্যা: ‘ই’ স্বরাগমের সাথে ‘স’ পুনর্বিন্যাস, তবে একে অনেক সময় ব্যঞ্জনাগমও বলা হয়। এখানে বিকল্প হিসেবে এটি ব্যঞ্জনাগমের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়, তবে আসলে মিশ্র। পরীক্ষায় সাধারণত ব্যঞ্জনাগমের উদাহরণ খুব কম, তাই স্ত্রী > ইস্ত্রি কে ধরা হয়।

৮. ক) শ্রুতিধ্বনিতে ধ্বনি যোগ হয়, অপিনিহিতিতে বদল হয়
ব্যাখ্যা: আগম বনাম পরিবর্তন।

৯. ক) শ্রুতিধ্বনি
ব্যাখ্যা: ‘স্মরণ’-এ ‘ই’ যোগ হয়েছে।

১০. খ) স্বরাগম
ব্যাখ্যা: বাংলায় স্বরাগম বেশি।

১১. খ) ই
ব্যাখ্যা: ক্লেশ > কিলেশ, ‘ই’ আগম।

১২. গ) সত্য > সইত্য
ব্যাখ্যা: এটি অপিনিহিতি, শ্রুতিধ্বনি নয়।

১৩. খ) স্বরাগম
ব্যাখ্যা: ‘ই’ স্বর যোগ হয়েছে।

১৪. ক) আগম
ব্যাখ্যা: শ্রুতিধ্বনি = আগম।

১৫. খ) স্বরাগম
ব্যাখ্যা: ক্ষমা > খমা, ‘অ’ যুক্ত হয়ে সহজ উচ্চারণ।


❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: শ্রুতিধ্বনি ও অপিনিহিতি কি এক?
উত্তর: না। শ্রুতিধ্বনিতে নতুন ধ্বনি যোগ হয় (রত্ন > রতন), আর অপিনিহিতিতে ধ্বনি বদলে যায় (সত্য > সইত্য)।

প্রশ্ন ২: ‘বাংলা’ শব্দে কি শ্রুতিধ্বনি আছে?
উত্তর: প্রমিত মতে নেই। ‘বঙ্গ’ থেকে ‘বাংলা’ হওয়ার সময় ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে, নতুন ধ্বনি যোগ হয়নি। তবে আঞ্চলিক উচ্চারণে ‘অ’ ঢোকার মতো শোনায়।

প্রশ্ন ৩: শ্রুতিধ্বনি কি মান্য বাংলায় গ্রহণযোগ্য?
উত্তর: কিছু শ্রুতিধ্বনি (যেমন: রতন) চলিত বাংলায় বহুল ব্যবহৃত, তবে মান্য লিখিত বাংলায় মূল শব্দই (রত্ন) শুদ্ধ। বিদেশি শব্দে শ্রুতিধ্বনি (ইস্কুল) সাধারণত অশুদ্ধ ধরা হয়।

প্রশ্ন ৪: স্বরাগম ও ব্যঞ্জনাগম কীভাবে মনে রাখব?
উত্তর: “স্বর ঢুকলে স্বরাগম, ব্যঞ্জন ঢুকলে ব্যঞ্জনাগম।” উদাহরণ: গ্রাম > গেরাম (স্বরাগম), স্তব > থস্তব (ব্যঞ্জনাগম)।


🏁 উপসংহার (Conclusion)

প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ আমরা শ্রুতিধ্বনি (আগম) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। মনে রাখার মূল সূত্র:

“মূল শব্দে ছিল না, উচ্চারণে ঢুকেছে—এটাই শ্রুতিধ্বনি।”
“স্বর ঢুকলে স্বরাগম, ব্যঞ্জন ঢুকলে ব্যঞ্জনাগম।”

এই ট্রিকসগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষায় শ্রুতিধ্বনি থেকে আসা সব প্রশ্নে আপনি পূর্ণ নম্বর পাবেন। ভাষার বিবর্তন বোঝা মানেই ব্যাকরণে দক্ষতা অর্জন। সফলতা আপনার হবেই।

লেখক: ToLearnTeam.com শিক্ষা বিভাগ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply