বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি: উচ্চারণস্থান, প্রণালি, ঘোষ-অঘোষ ও শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্ণয় (বিগত প্রশ্নোত্তর সহ)
📚 ভূমিকা (Introduction)
প্রিয় শিক্ষার্থী, বাংলা ভাষার উচ্চারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি। স্বরধ্বনি যেখানে বাধাহীনভাবে উচ্চারিত হয়, ব্যঞ্জনধ্বনি সেখানে মুখবিবরের নির্দিষ্ট স্থানে বাধা সৃষ্টি করে উচ্চারিত হয়। এই বাধার স্থান (কোথায়), প্রণালি (কীভাবে), স্বরযন্ত্রের কম্পন (ঘোষ-অঘোষ) এবং বায়ুর চাপ (অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ)—এই চারটি উপাদানই ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি নির্ধারণ করে। পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কোন ধ্বনি কোথায় উচ্চারিত হয়, কোনটি ঘোষ/অঘোষ, কোনটি শুদ্ধ/অশুদ্ধ—এসব প্রশ্ন প্রতি বছর আসে।
কেন এই অধ্যায় পরীক্ষার জন্য জরুরি?
বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিএস প্রিলিমিনারি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ, এসএসসি-এইচএসসি বোর্ড এবং ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি থেকে প্রতি বছর ২-৪টি প্রশ্ন আসে। যেমন—
- [BCS 44th] তে এসেছিল “কোনটি ঘোষ ধ্বনি?”
- [Primary 2023] তে এসেছিল “নাসিক্য ধ্বনি কোনটি?”
- [SSC 2022] তে এসেছিল “শিষ ধ্বনি কোনগুলো?”
- [NTRCA 2020] তে এসেছিল “তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?”
- [Primary 2022] তে এসেছিল “কোনটি শুদ্ধ উচ্চারণ?”
আজকের লেকচারে আমরা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করব, যাতে পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে একটি প্রশ্নও ভুল না হয়।
🎯 শিখনফল (Learning Objectives)
এই লেকচার শেষে আপনি—
- বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি এবং এর মূল নিয়ম ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
- উচ্চারণস্থান (কণ্ঠ্য, তালব্য, মূর্ধন্য, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য) অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনি শ্রেণিবদ্ধ করতে পারবেন।
- উচ্চারণপ্রণালি (স্পর্শ, নাসিক্য, শিষ, কম্পিত, তাড়নজাত, পার্শ্বিক, অন্তঃস্থ) চিনতে পারবেন।
- ঘোষ-অঘোষ ও অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ নির্ণয়ের শর্টকাট আয়ত্ত করবেন।
- শুদ্ধ ও অশুদ্ধ উচ্চারণের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবেন।
- বিগত সালের প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারবেন।
📖 প্রধান আলোচনা (Main Discussion)
১. বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি কাকে বলে? (Definition of Benjandhonir Uccaronriti)
সহজ সংজ্ঞা
প্রমিত বাংলায় প্রতিটি ব্যঞ্জনধ্বনি কীভাবে, কোথায় এবং কোন নিয়মে উচ্চারিত হবে, তার সুসংহত পদ্ধতিই ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখবিবরের কোনো না কোনো স্থানে বাধা পায় এবং সেই বাধার স্থান, প্রকৃতি, স্বরযন্ত্রের কম্পন ও বায়ুর চাপই উচ্চারণরীতি নির্ধারণ করে।
ভাষাবিদদের সংজ্ঞা (Linguistic Reference)
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থে বলেছেন—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস মুখবিবরের কোথাও না কোথাও পূর্ণ বা আংশিক বাধা পায়; এই বাধার স্থান ও প্রকৃতিই ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি নির্ধারণ করে।”
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাকযন্ত্রের কোনো অংশ স্পর্শ বা সংকীর্ণ হয়ে বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে; সেই বাধার প্রকৃতি অনুযায়ীই ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ ও উচ্চারণরীতি নির্ধারিত হয়।”
(সূত্র: ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা)
এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখবিবরের কোনো স্থানে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়; বাধার স্থান, প্রকৃতি, স্বরযন্ত্রের কম্পন এবং বায়ুর চাপ—এই চারটি উপাদানই ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণরীতির মূল নিয়ামক।”
ভাষাবিদদের মতে—
“ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি বাংলা ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক ভিত্তি; শুদ্ধ ব্যঞ্জন উচ্চারণ ছাড়া ভাষার পরিপূর্ণ শুদ্ধতা অর্জন সম্ভব নয়।”
২. ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণরীতির চারটি মূল উপাদান (Four Key Factors)
ক) উচ্চারণস্থান (Place of Articulation)
বাতাস মুখবিবরের কোথায় বাধা পায়।
| উচ্চারণস্থান | ধ্বনিসমূহ | মনে রাখার কৌশল |
|---|---|---|
| কণ্ঠ্য | ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ | “ক” বর্গ + হ |
| তালব্য | চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য | “চ” বর্গ + শ + য |
| মূর্ধন্য | ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ় | “ট” বর্গ + র + ড় + ঢ় |
| দন্ত্য | ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স | “ত” বর্গ + ল + স |
| ওষ্ঠ্য | প, ফ, ব, ভ, ম | “প” বর্গ + ম |
ছড়া:
“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ,
মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ,
ঠোঁটে প-বর্গ—এই পাঁচ স্থান।”
খ) উচ্চারণপ্রণালি (Manner of Articulation)
বাতাস কীভাবে বাধা পায়।
| প্রণালি | ধ্বনিসমূহ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| স্পর্শ ধ্বনি | ক-বর্গ থেকে প-বর্গ (২৫টি) | ক, চ, ট, ত, প |
| নাসিক্য ধ্বনি | ঙ, ঞ, ণ, ন, ম | ঙ, ঞ, ণ, ন, ম |
| শিষ ধ্বনি | শ, ষ, স, হ | শ, ষ, স, হ |
| কম্পিত ধ্বনি | র | র |
| তাড়নজাত ধ্বনি | ড়, ঢ় | ড়, ঢ় |
| পার্শ্বিক ধ্বনি | ল | ল |
| অন্তঃস্থ ধ্বনি | য, ব, য় | য, ব, য় |
গ) স্বরযন্ত্রের কম্পন (Voicing)
উচ্চারণে ভোকাল কর্ড কাঁপে কি না।
| প্রকার | বৈশিষ্ট্য | ধ্বনিসমূহ |
|---|---|---|
| ঘোষ | স্বরযন্ত্র কম্পিত হয় | গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, র, ল, হ, ড়, ঢ়, য় |
| অঘোষ | স্বরযন্ত্র কম্পিত হয় না | ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স |
সূত্র:
“বর্গের ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৪র্থ-৫ম ঘোষ।”
ঘ) বায়ুর চাপ (Aspiration)
উচ্চারণে বাতাস কম বা বেশি লাগে।
| প্রকার | বৈশিষ্ট্য | ধ্বনিসমূহ |
|---|---|---|
| অল্পপ্রাণ | কম বাতাস | ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ, ট, ড, ণ, ত, দ, ন, প, ব, ম, য, র, ল, ব, হ, ড়, ঢ়, য় |
| মহাপ্রাণ | বেশি বাতাস | খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ, শ, ষ, স |
সূত্র:
“বিজোড় অল্প, জোড় মহা।”
৩. ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ বিশ্লেষণ (Pronunciation Analysis)
ক) কণ্ঠ্য ধ্বনি (Velar Sounds)
- উচ্চারণস্থান: কণ্ঠনালির কাছে জিভের মূল।
- উদাহরণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ
- প্রণালি: স্পর্শ (ক-বর্গ), নাসিক্য (ঙ), শিষ (হ)
- ব্যাখ্যা: ‘ক’ উচ্চারণে জিভের পেছনের অংশ নরম তালু স্পর্শ করে বাতাস আটকায়।
- শুদ্ধ: কলম, খবর, গান, ঘর, হাত
- অশুদ্ধ: হাত > আত (হ-লোপ)
খ) তালব্য ধ্বনি (Palatal Sounds)
- উচ্চারণস্থান: শক্ত তালু।
- উদাহরণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য
- প্রণালি: স্পর্শ (চ-বর্গ), নাসিক্য (ঞ), শিষ (শ), অন্তঃস্থ (য)
- ব্যাখ্যা: ‘চ’ উচ্চারণে জিভের মাঝখান শক্ত তালু স্পর্শ করে।
- শুদ্ধ: চা, ছাতা, জল, ঝড়, শীত, যত্ন
- অশুদ্ধ: চা > সা, ঝড় > জড়, শীত > সিত
গ) মূর্ধন্য ধ্বনি (Retroflex Sounds)
- উচ্চারণস্থান: মূর্ধা (তালুর উঁচু অংশ)।
- উদাহরণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়
- প্রণালি: স্পর্শ (ট-বর্গ), নাসিক্য (ণ), কম্পিত (র), তাড়নজাত (ড়, ঢ়)
- ব্যাখ্যা: ‘ট’ উচ্চারণে জিভের ডগা উল্টে মূর্ধায় স্পর্শ করে।
- শুদ্ধ: টাকা, ঠান্ডা, ডালা, ঢাকা, রাজা, ড় (বড়)
- অশুদ্ধ: টাকা > তাকা, ঠান্ডা > টান্ডা, ঢাকা > ডাকা
ঘ) দন্ত্য ধ্বনি (Dental Sounds)
- উচ্চারণস্থান: উপরের দাঁত।
- উদাহরণ: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স
- প্রণালি: স্পর্শ (ত-বর্গ), নাসিক্য (ন), পার্শ্বিক (ল), শিষ (স)
- ব্যাখ্যা: ‘ত’ উচ্চারণে জিভের ডগা উপরের দাঁত স্পর্শ করে।
- শুদ্ধ: তালা, থাম, দাদা, ধান, নাম, লোক, সকাল
- অশুদ্ধ: তালা > টালা, থাম > তাম, ধান > দান
ঙ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি (Labial Sounds)
- উচ্চারণস্থান: দুই ঠোঁট।
- উদাহরণ: প, ফ, ব, ভ, ম
- প্রণালি: স্পর্শ (প-বর্গ), নাসিক্য (ম)
- ব্যাখ্যা: ‘প’ উচ্চারণে দুই ঠোঁট স্পর্শ করে বাতাস আটকায়।
- শুদ্ধ: পানি, ফুল, বই, ভাত, মা
- অশুদ্ধ: ফুল > পুল, ভাত > বাত
৪. শুদ্ধ ও অশুদ্ধ উচ্চারণের উদাহরণ (Correct vs Incorrect)
ক) ঘোষ-অঘোষ জনিত ভুল (২০+):
| শুদ্ধ উচ্চারণ | অশুদ্ধ উচ্চারণ | ব্যাখ্যা (কেন অশুদ্ধ?) |
|---|---|---|
| বাঘ | বাগ | ঘোষ ‘ঘ’ > অঘোষ ‘গ’। [BCS 35th] |
| ঝড় | জড় | ঘোষ মহাপ্রাণ ‘ঝ’ > ঘোষ অল্পপ্রাণ ‘জ’। |
| ঢাকা | ডাকা | ঘোষ মহাপ্রাণ ‘ঢ’ > ঘোষ অল্পপ্রাণ ‘ড’। |
| ধান | দান | ঘোষ মহাপ্রাণ ‘ধ’ > ঘোষ অল্পপ্রাণ ‘দ’। |
| ভাত | বাত | ঘোষ মহাপ্রাণ ‘ভ’ > ঘোষ অল্পপ্রাণ ‘ব’। |
| দুধ | দুদ | ঘোষ মহাপ্রাণ ‘ধ’ > ঘোষ অল্পপ্রাণ ‘দ’। |
| পাখি | পাকি | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘খ’ > অঘোষ অল্পপ্রাণ ‘ক’। |
| ছাতা | সাতা | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘ছ’ > অঘোষ শিষ ‘স’। |
| থাম | তাম | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘থ’ > অঘোষ অল্পপ্রাণ ‘ত’। |
| ফুল | পুল | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘ফ’ > অঘোষ অল্পপ্রাণ ‘প’। |
| গাছ | গাস | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘ছ’ > অঘোষ শিষ ‘স’। |
| লাঠি | লাটি | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘ঠ’ > অঘোষ অল্পপ্রাণ ‘ট’। |
| শব্দ | সব্দ | তালব্য শিষ ‘শ’ > দন্ত্য শিষ ‘স’। |
| ষড়যন্ত্র | সরযন্ত্র | মূর্ধন্য শিষ ‘ষ’ > দন্ত্য শিষ ‘স’। |
| সকাল | শকাল | দন্ত্য শিষ ‘স’ > তালব্য শিষ ‘শ’। |
| শোনা | হোনা | তালব্য শিষ ‘শ’ > ঘোষ শিষ ‘হ’। |
| হাত | আত | ঘোষ শিষ ‘হ’-এর লোপ। |
| মাথা | মাতা | অঘোষ মহাপ্রাণ ‘থ’ > অঘোষ অল্পপ্রাণ ‘ত’। |
| বন্ধু | বন্দু | ঘোষ মহাপ্রাণ ‘ধ’ > ঘোষ অল্পপ্রাণ ‘দ’। |
| রঙ | রং | নাসিক্য ‘ঙ’-এর অশুদ্ধ উচ্চারণ। |
| বৃষ্টি | বিষ্টি | ‘র’-এর বিকৃতি। |
| সূর্য | সুরুজ | ‘য’ > ‘জ’। |
খ) স্থানগত ভুল উচ্চারণ (২০+):
| শুদ্ধ উচ্চারণ | অশুদ্ধ উচ্চারণ | ব্যাখ্যা (কেন অশুদ্ধ?) |
|---|---|---|
| টাকা | তাকা | মূর্ধন্য ‘ট’ > দন্ত্য ‘ত’। |
| ডালা | দালা | মূর্ধন্য ‘ড’ > দন্ত্য ‘দ’। |
| ঢাকা | ডাকা | মূর্ধন্য ‘ঢ’ > মূর্ধন্য অল্পপ্রাণ ‘ড’। |
| তালা | টালা | দন্ত্য ‘ত’ > মূর্ধন্য ‘ট’। |
| দাদা | ডাডা | দন্ত্য ‘দ’ > মূর্ধন্য ‘ড’। |
| লবণ | নবণ | পার্শ্বিক ‘ল’ > নাসিক্য ‘ন’। |
| নদী | লদী | নাসিক্য ‘ন’ > পার্শ্বিক ‘ল’। |
| জল | জোল | ‘অ’ > ‘ও’ (স্বরধ্বনির বিকৃতি)। |
| রাত | রাইত | ‘আ’ > ‘আই’ (স্বরধ্বনি)। |
| বই | বোই | ‘অ’ > ‘ও’। |
| দেশ | দ্যাশ | ‘এ’ > ‘অ্যা’। |
| চার | সার | তালব্য ‘চ’ > দন্ত্য ‘স’। |
| ফল | ফোল | ‘অ’ > ‘ও’। |
| হলুদ | অলুদ | ‘হ’-এর লোপ। |
| স্নান | সান | ‘ন’-এর লোপ। |
| গ্রাম | গাঁম | ‘র’-এর লোপ ও স্বর বিকৃতি। |
| ক্রম | কম | ‘র’-এর লোপ। |
| পথ | পত | মহাপ্রাণ ‘থ’ > অল্পপ্রাণ ‘ত’। |
| বাড়ি | বারি | তাড়নজাত ‘ড়’ > কম্পিত ‘র’। |
| গাড়ি | গারি | তাড়নজাত ‘ড়’ > কম্পিত ‘র’। |
| মাছ | মাহা | মহাপ্রাণ ‘ছ’ > হ্রস্ব ‘হ’। |
| বিকাল | বেকাল | ‘ই’ > ‘এ’ (স্বরধ্বনি)। |
🧠 গ্রামাটিক্যাল ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল (Rules & Tricks)
Trick 1: উচ্চারণস্থান মনে রাখার ছড়া
“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ,
মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ,
ঠোঁটে প-বর্গ—এই পাঁচ স্থান।”
Trick 2: ঘোষ-অঘোষ নির্ণয়ের শর্টকাট
- গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করুন।
- কম্পন পেলে → ঘোষ
- কম্পন না পেলে → অঘোষ
সূত্র:
“বর্গের ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৪র্থ-৫ম ঘোষ।”
Trick 3: অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ চেনার কৌশল
- বিজোড় স্থান (১ম, ৩য়, ৫ম) = অল্পপ্রাণ
- জোড় স্থান (২য়, ৪র্থ) = মহাপ্রাণ
শর্টকাট:
“বিজোড় অল্প, জোড় মহা।”
Trick 4: শিষ ধ্বনি মনে রাখার কৌশল
“শ ষ স হ—এই চার, শিষ ধ্বনির সার;
বাতাস ঘষা খেয়ে বের হয়, শন শন আওয়াজ।”
Trick 5: নাসিক্য ধ্বনি মনে রাখার ছড়া
“নাঙা ঞানি ণানু নানা মামা—
এই পাঁচ নাসিক্যের নাম।”
Trick 6: তাড়নজাত ধ্বনি চেনার উপায়
“ড় ঢ়—জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে;
এরা তাড়নজাত, স্পর্শ নয়।”
⚠️ ভুল যেখানে হয় (Common Mistakes)
- “হ” কে অঘোষ ভাবা: ‘হ’ ঘোষ ধ্বনি, কারণ গলা কাঁপে।
- “ব” কে দন্ত্য ভাবা: ‘ব’ ওষ্ঠ্য ধ্বনি, কারণ ঠোঁট স্পর্শ হয়।
- “র” কে তালব্য ভাবা: ‘র’ মূর্ধন্য ধ্বনি, জিভ উল্টে মূর্ধায় লাগে।
- “শ ষ স” কে অল্পপ্রাণ ভাবা: এরা মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- “ড় ঢ়” কে স্পর্শ ধ্বনি ভাবা: এরা তাড়নজাত ধ্বনি।
- মূর্ধন্য ও দন্ত্য গুলিয়ে ফেলা: ট-বর্গ (মূর্ধন্য) ও ত-বর্গ (দন্ত্য) আলাদা।
- ঘোষ মহাপ্রাণকে অল্পপ্রাণ করা: ঢাকা > ডাকা (অশুদ্ধ), ধান > দান (অশুদ্ধ)।
📊 উদাহরণ সহ টেবিল (Examples with Explanation)
টেবিল ১: উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনি (২৫+)
| ধ্বনি | উচ্চারণস্থান | উদাহরণ শব্দ | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|---|
| ক | কণ্ঠ্য | কলম | জিভের মূল কণ্ঠনালি স্পর্শ। [BCS 44th] |
| খ | কণ্ঠ্য | খবর | কণ্ঠে মহাপ্রাণ। |
| গ | কণ্ঠ্য | গান | কণ্ঠে ঘোষ। |
| ঘ | কণ্ঠ্য | ঘর | কণ্ঠে ঘোষ মহাপ্রাণ। |
| ঙ | কণ্ঠ্য | ঙ (সংস্কৃত) | কণ্ঠে নাসিক্য। |
| হ | কণ্ঠ্য | হাত | কণ্ঠে শিষ, ঘোষ। |
| চ | তালব্য | চা | জিভ তালুতে। |
| ছ | তালব্য | ছাতা | তালুতে মহাপ্রাণ। |
| জ | তালব্য | জল | তালুতে ঘোষ। |
| ঝ | তালব্য | ঝড় | তালুতে ঘোষ মহাপ্রাণ। |
| ঞ | তালব্য | ঞ (সংস্কৃত) | তালুতে নাসিক্য। |
| শ | তালব্য | শীত | তালুতে শিষ। |
| য | তালব্য | যত্ন | তালুতে অন্তঃস্থ। |
| ট | মূর্ধন্য | টাকা | জিভ উল্টে মূর্ধায়। |
| ঠ | মূর্ধন্য | ঠান্ডা | মূর্ধায় মহাপ্রাণ। |
| ড | মূর্ধন্য | ডালা | মূর্ধায় ঘোষ। |
| ঢ | মূর্ধন্য | ঢাকা | মূর্ধায় ঘোষ মহাপ্রাণ। |
| ণ | মূর্ধন্য | ণ (ঋণ) | মূর্ধায় নাসিক্য। |
| র | মূর্ধন্য | রাজা | জিভ উল্টে মূর্ধায় কম্পিত। |
| ড় | মূর্ধন্য | ড় (বড়) | মূর্ধায় তাড়নজাত। |
| ঢ় | মূর্ধন্য | ঢ় | মূর্ধায় তাড়নজাত। |
| ত | দন্ত্য | তালা | জিভ দাঁতে। |
| থ | দন্ত্য | থাম | দাঁতে মহাপ্রাণ। |
| দ | দন্ত্য | দাদা | দাঁতে ঘোষ। |
| ধ | দন্ত্য | ধান | দাঁতে ঘোষ মহাপ্রাণ। |
| ন | দন্ত্য | নাম | দাঁতে নাসিক্য। |
| ল | দন্ত্য | লোক | দাঁতে পার্শ্বিক। |
| স | দন্ত্য | সকাল | দাঁতে শিষ। |
| প | ওষ্ঠ্য | পানি | ঠোঁটে অঘোষ। |
| ফ | ওষ্ঠ্য | ফুল | ঠোঁটে মহাপ্রাণ। |
| ব | ওষ্ঠ্য | বই | ঠোঁটে ঘোষ। |
| ভ | ওষ্ঠ্য | ভাত | ঠোঁটে ঘোষ মহাপ্রাণ। |
| ম | ওষ্ঠ্য | মা | ঠোঁটে নাসিক্য। |
টেবিল ২: উচ্চারণপ্রণালি অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনি (২০+)
| ধ্বনি | প্রণালি | উদাহরণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|---|
| ক | স্পর্শ | কলম | বাতাস পূর্ণ বন্ধ। |
| চ | স্পর্শ | চা | তালুতে স্পর্শ। |
| ট | স্পর্শ | টাকা | মূর্ধায় স্পর্শ। |
| ত | স্পর্শ | তালা | দাঁতে স্পর্শ। |
| প | স্পর্শ | পানি | ঠোঁটে স্পর্শ। |
| ঙ | নাসিক্য | ঙ | নাক দিয়ে বাতাস। |
| ঞ | নাসিক্য | ঞ | নাক দিয়ে বাতাস। |
| ণ | নাসিক্য | ণ | নাক দিয়ে বাতাস। |
| ন | নাসিক্য | নাম | নাক দিয়ে বাতাস। |
| ম | নাসিক্য | মা | নাক দিয়ে বাতাস। |
| শ | শিষ | শীত | শিস আওয়াজ। [SSC 2022] |
| ষ | শিষ | ষড়যন্ত্র | শিস আওয়াজ। |
| স | শিষ | সকাল | শিস আওয়াজ। |
| হ | শিষ | হাত | শিস আওয়াজ, ঘোষ। |
| র | কম্পিত | রাজা | জিভ কাঁপে। |
| ড় | তাড়নজাত | ড় (বড়) | জিভ দ্রুত মূর্ধায়। |
| ঢ় | তাড়নজাত | ঢ় | জিভ দ্রুত মূর্ধায়। |
| ল | পার্শ্বিক | লোক | জিভের পাশ দিয়ে বাতাস। |
| য | অন্তঃস্থ | যত্ন | স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝে। |
| ব | অন্তঃস্থ | বন | স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝে। |
| য় | অন্তঃস্থ | ময় | স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝে। |
✍️ অনুশীলনী (Exercise)
A) বিগত সালের প্রশ্ন (MCQ)
১। নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি? [BCS 44th]
ক) ক
খ) চ
গ) ব
ঘ) ট
২। নাসিক্য ধ্বনি কোনটি? [Primary 2023]
ক) খ
খ) ঙ
গ) ঘ
ঘ) থ
৩। শিষ ধ্বনি কোনগুলো? [SSC 2022]
ক) য, র, ল
খ) শ, ষ, স, হ
গ) হ, ব, ম
ঘ) ক, খ, গ
৪। কোনটি তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি? [NTRCA 2020]
ক) ক
খ) ট
গ) চ
ঘ) প
৫। “ড়” ও “ঢ়” কী ধরনের ধ্বনি?
ক) স্পর্শ ধ্বনি
খ) তাড়নজাত ধ্বনি
গ) নাসিক্য ধ্বনি
ঘ) শিষ ধ্বনি
৬। মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি? [Primary 2017]
ক) ক
খ) গ
গ) ঘ
ঘ) ঙ
৭। “ল” ধ্বনিটি উচ্চারণে জিহ্বার ডগা দাঁতে লাগে, তাই এটি—
ক) মূর্ধন্য
খ) দন্ত্য
গ) তালব্য
ঘ) ওষ্ঠ্য
৮। “র” ধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কী ধরনের?
ক) কণ্ঠ্য
খ) তালব্য
গ) মূর্ধন্য
ঘ) দন্ত্য
৯। ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
ক) ক
খ) খ
গ) গ
ঘ) ঘ
১০। “হ” ধ্বনি কোন শ্রেণির?
ক) অঘোষ
খ) ঘোষ
গ) অল্পপ্রাণ
ঘ) নাসিক্য
১১। “ব” ধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কী?
ক) দন্ত্য
খ) তালব্য
গ) ওষ্ঠ্য
ঘ) মূর্ধন্য
১২। স্পর্শ ধ্বনি কয়টি?
ক) ২০টি
খ) ২২টি
গ) ২৫টি
ঘ) ৩০টি
১৩। নিচের কোনটি কম্পিত ধ্বনি?
ক) ল
খ) র
গ) য
ঘ) ব
১৪। “ণ” ধ্বনি কী ধরনের?
ক) দন্ত্য নাসিক্য
খ) মূর্ধন্য নাসিক্য
গ) তালব্য নাসিক্য
ঘ) ওষ্ঠ্য নাসিক্য
১৫। “য়” ধ্বনি উচ্চারণপ্রণালি অনুযায়ী কী?
ক) স্পর্শ
খ) নাসিক্য
গ) অন্তঃস্থ
ঘ) শিষ
B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Questions)
১। বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি কাকে বলে?
উত্তর: প্রমিত বাংলায় প্রতিটি ব্যঞ্জনধ্বনি কীভাবে, কোথায় এবং কোন নিয়মে উচ্চারিত হবে, তার সুসংহত পদ্ধতিই ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি। ব্যঞ্জন উচ্চারণে বাতাস মুখবিবরের কোনো না কোনো স্থানে বাধা পায় এবং সেই বাধার স্থান, প্রকৃতি, স্বরযন্ত্রের কম্পন ও বায়ুর চাপই উচ্চারণরীতি নির্ধারণ করে।
২। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের চারটি প্রধান উপাদান কী কী?
উত্তর:
১) উচ্চারণস্থান (কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট)
২) উচ্চারণপ্রণালি (স্পর্শ, নাসিক্য, শিষ, কম্পিত, তাড়নজাত, পার্শ্বিক)
৩) স্বরযন্ত্রের কম্পন (ঘোষ-অঘোষ)
৪) বায়ুর চাপ (অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ)
৩। ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি কীভাবে চেনা যায়?
উত্তর: গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করলে কম্পন পেলে ঘোষ, না পেলে অঘোষ। বর্গের ১ম-২য় বর্ণ অঘোষ, ৩য়-৫ম বর্ণ ঘোষ।
৪। শিষ ধ্বনি কাকে বলে? কোনগুলো শিষ ধ্বনি?
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে শিসের মতো আওয়াজ করে বের হয়, তাকে শিষ ধ্বনি বলে। বাংলায় শিষ ধ্বনি ৪টি—শ, ষ, স, হ।
৫। স্পর্শ ধ্বনি ও তাড়নজাত ধ্বনির পার্থক্য কী?
উত্তর: স্পর্শ ধ্বনি উচ্চারণে জিভ বা ঠোঁট মুখবিবরের কোনো স্থানে পূর্ণ স্পর্শ করে বাতাস আটকে দেয় (ক-বর্গ থেকে প-বর্গ, ২৫টি)। তাড়নজাত ধ্বনি উচ্চারণে জিভের ডগা দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে (ড়, ঢ়)।
৬। নাসিক্য ধ্বনি কয়টি ও কী কী?
উত্তর: নাসিক্য ধ্বনি ৫টি—ঙ, ঞ, ণ, ন, ম। এরা উচ্চারণে নাক দিয়ে বাতাস বের হয়।
৭। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ৫ প্রকার—কণ্ঠ্য (ক-বর্গ), তালব্য (চ-বর্গ), মূর্ধন্য (ট-বর্গ), দন্ত্য (ত-বর্গ), ওষ্ঠ্য (প-বর্গ)।
C) উত্তরমালা (Answer Key with Explanation)
১. গ) ব
ব্যাখ্যা: ব ওষ্ঠ্য বর্গের ৩য়, ঘোষ।
২. খ) ঙ
ব্যাখ্যা: ঙ নাসিক্য ধ্বনি।
৩. খ) শ, ষ, স, হ
ব্যাখ্যা: এদের উচ্চারণে শিস আওয়াজ।
৪. গ) চ
ব্যাখ্যা: চ-বর্গ তালব্য।
৫. খ) তাড়নজাত
ব্যাখ্যা: জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে।
৬. গ) ঘ
ব্যাখ্যা: ঘ বর্গের ৪র্থ, মহাপ্রাণ।
৭. খ) দন্ত্য
ব্যাখ্যা: ল উচ্চারণে জিভ দাঁত স্পর্শ।
৮. গ) মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা: র উচ্চারণে জিভ উল্টে মূর্ধায়।
৯. ঘ) ঘ
ব্যাখ্যা: ঘ বর্গের ৪র্থ, ঘোষ মহাপ্রাণ।
১০. খ) ঘোষ
ব্যাখ্যা: হ উচ্চারণে গলা কাঁপে।
১১. গ) ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা: ব উচ্চারণে ঠোঁট স্পর্শ।
১২. গ) ২৫টি
ব্যাখ্যা: ক-বর্গ থেকে প-বর্গ ২৫টি।
১৩. খ) র
ব্যাখ্যা: র কম্পিত ধ্বনি।
১৪. খ) মূর্ধন্য নাসিক্য
ব্যাখ্যা: ণ মূর্ধায় উচ্চারিত নাসিক্য।
১৫. গ) অন্তঃস্থ
ব্যাখ্যা: য় স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি।
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাধা কোথায় হয়?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখবিবরের ৫টি স্থানে বাধা হয়—কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট।
প্রশ্ন ২: ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি কীভাবে চিনব?
উত্তর: গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করুন। কম্পন পেলে ঘোষ, না পেলে অঘোষ। বর্গের ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৫ম ঘোষ।
প্রশ্ন ৩: শিষ ধ্বনি কী?
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে শিসের মতো আওয়াজ করে বের হয়, তাকে শিষ ধ্বনি বলে। বাংলায় ৪টি—শ, ষ, স, হ।
প্রশ্ন ৪: স্পর্শ ও শিষ ধ্বনির পার্থক্য কী?
উত্তর: স্পর্শ ধ্বনিতে বাতাস পূর্ণভাবে বন্ধ হয় (ক-বর্গ থেকে প-বর্গ); শিষ ধ্বনিতে বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে বের হয় (শ, ষ, স, হ)।
প্রশ্ন ৫: তাড়নজাত ধ্বনি কী?
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণে জিভের ডগা দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে, তাকে তাড়নজাত ধ্বনি বলে। বাংলায় ২টি—ড়, ঢ়।
🏁 উপসংহার (Conclusion)
প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ আমরা বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। মনে রাখার মূল সূত্র:
“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ, মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ, ঠোঁটে প-বর্গ।”
“গলায় হাত রেখে দেখো—কম্পন পেলে ঘোষ, না পেলে অঘোষ।”
“বিজোড় অল্প, জোড় মহা।”
এই ট্রিকসগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণরীতি থেকে আসা সব প্রশ্নে আপনি পূর্ণ নম্বর পাবেন। শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চা করুন, সফলতা আপনার হবেই।
লেখক: ToLearnTeam.com শিক্ষা বিভাগ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


