শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান দেখাচ্ছেন
শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান দেখাচ্ছেন

ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ কাকে বলে? চেনার সহজ কৌশল

ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ: ঘোষ-অঘোষ, অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ, উচ্চারণস্থান ও প্রণালি (বিগত প্রশ্নোত্তর সহ)

📚 ভূমিকা (Introduction)

প্রিয় শিক্ষার্থী, বাংলা ভাষার প্রতিটি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় আমাদের মুখের ভেতরে জিভ, ঠোঁট, দাঁত, তালু, কণ্ঠনালি নানা স্থানে বাধা সৃষ্টি করে। কোন ধ্বনি কোথায়, কীভাবে বাধা পায়—এই বিজ্ঞানই ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ। পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে ঘোষ-অঘোষ, অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ, উচ্চারণস্থান, উচ্চারণপ্রণালি—এসব নিয়ে প্রতি বছর প্রশ্ন আসে। আজকের লেকচারে আমরা সহজ সংজ্ঞা, টেবিল ও ট্রিকসের মাধ্যমে ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণের সম্পূর্ণ বিষয়টি আয়ত্ত করব।

কেন এই অধ্যায় পরীক্ষার জন্য জরুরি?
বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিএস প্রিলিমিনারি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ, এসএসসি-এইচএসসি বোর্ড এবং ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ থেকে প্রতি বছর ২-৪টি প্রশ্ন আসে। যেমন—

  • [BCS 44th] তে এসেছিল “কোনটি ঘোষ ধ্বনি?”
  • [Primary 2023] তে এসেছিল “নাসিক্য ধ্বনি কোনটি?”
  • [SSC 2022] তে এসেছিল “শিষ ধ্বনি কোনগুলো?”
  • [NTRCA 2020] তে এসেছিল “তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?”

সুতরাং, এই অধ্যায়ে দখল থাকলে আপনি সহজেই গুরুত্বপূর্ণ নম্বর নিশ্চিত করতে পারবেন।


🎯 শিখনফল (Learning Objectives)

এই লেকচার শেষে আপনি—

  1. ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ কী তা সংজ্ঞাসহ বুঝতে পারবেন।
  2. উচ্চারণস্থান (কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট) অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে ভাগ করতে পারবেন।
  3. উচ্চারণপ্রণালি (স্পর্শ, নাসিক্য, শিষ, কম্পিত, তাড়নজাত, পার্শ্বিক) চিনতে পারবেন।
  4. ঘোষ-অঘোষ, অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ নির্ণয়ের শর্টকাট কৌশল আয়ত্ত করবেন।
  5. বিগত সালের প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারবেন।

📖 প্রধান আলোচনা (Main Discussion)

১. ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ কাকে বলে? (Definition of Benjandhonir Uccharon)

সহজ সংজ্ঞা

ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ হলো ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখবিবরের কোনো না কোনো স্থানে বাধা পেয়ে মুখ দিয়ে বের হওয়ার প্রক্রিয়া। এই বাধা জিভ, ঠোঁট, দাঁত, তালু বা কণ্ঠনালির মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং সেই বাধার স্থান ও প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনির সৃষ্টি হয়।

ভাষাবিদদের সংজ্ঞা (Linguistic Reference)

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থে বলেছেন—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস মুখবিবরের কোথাও না কোথাও পূর্ণ বা আংশিক বাধা পায়; এই বাধার স্থান ও প্রকৃতিই ব্যঞ্জনধ্বনির ভিন্নতা নির্ধারণ করে।”

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাকযন্ত্রের কোনো অংশ স্পর্শ বা সংকীর্ণ হয়ে বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে; সেই বাধার প্রকৃতি অনুযায়ীই ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ করা হয়।”
(সূত্র: ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা)

এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখবিবরের কোনো স্থানে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়; বাধার স্থান, প্রকৃতি, স্বরযন্ত্রের কম্পন এবং বায়ুর চাপ—এই চারটি উপাদানই ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের মূল নিয়ামক।”

ভাষাবিদদের মতে—
“ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের প্রধান উপাদান হলো—উচ্চারণস্থান, উচ্চারণপ্রণালি, স্বরযন্ত্রের কম্পন ও বায়ুর চাপ; এই চারটি উপাদানই ধ্বনির প্রকৃতি নির্ধারণ করে।”


২. ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের চারটি মূল উপাদান (Four Key Factors)

ক) উচ্চারণস্থান (Place of Articulation)

বাতাস মুখবিবরের কোথায় বাধা পায়।

  • কণ্ঠ্য: জিভের মূল কণ্ঠনালির কাছে বাধা → ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ
  • তালব্য: জিভের মাঝখান শক্ত তালুতে বাধা → চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ
  • মূর্ধন্য: জিভের ডগা উল্টে মূর্ধায় বাধা → ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র
  • দন্ত্য: জিভের ডগা দাঁতে বাধা → ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স
  • ওষ্ঠ্য: দুই ঠোঁটে বাধা → প, ফ, ব, ভ, ম

খ) উচ্চারণপ্রণালি (Manner of Articulation)

বাতাস কীভাবে বাধা পায়।

  • স্পর্শ ধ্বনি (Plosive/Stop): বাতাস পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পরে হঠাৎ খুলে যায় → ক-বর্গ থেকে প-বর্গ (২৫টি)
  • নাসিক্য ধ্বনি (Nasal): বাতাস নাক দিয়ে বের হয় → ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
  • শিষ ধ্বনি (Fricative): বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে বের হয় → শ, ষ, স, হ
  • কম্পিত ধ্বনি (Trill): জিভের ডগা কাঁপে → র
  • তাড়নজাত ধ্বনি (Tap/Flap): জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে → ড়, ঢ়
  • পার্শ্বিক ধ্বনি (Lateral): জিভের দুপাশ দিয়ে বাতাস বের হয় → ল
  • অন্তঃস্থ ধ্বনি (Semi-vowel): স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি → য, ব, য়

গ) স্বরযন্ত্রের কম্পন (Voicing)

উচ্চারণে ভোকাল কর্ড কাঁপে কি না।

  • ঘোষ ধ্বনি: ভোকাল কর্ড কম্পিত হয় → গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, র, ল, হ, ড়, ঢ়, য়
  • অঘোষ ধ্বনি: ভোকাল কর্ড কম্পিত হয় না → ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স

ঘ) বায়ুর চাপ (Aspiration)

উচ্চারণে বাতাস কম বা বেশি লাগে।

  • অল্পপ্রাণ: কম বাতাস → ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ, ট, ড, ণ, ত, দ, ন, প, ব, ম, য, র, ল, ব, হ, ড়, ঢ়, য়
  • মহাপ্রাণ: বেশি বাতাস → খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ, শ, ষ, স

৩. ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও প্রণালি বিস্তারিত (Detailed Articulation)

ক) কণ্ঠ্য ধ্বনি (Velar Sounds)

  • উচ্চারণস্থান: কণ্ঠনালির কাছে জিভের মূল।
  • উদাহরণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ
  • প্রণালি: স্পর্শ (ক-বর্গ), নাসিক্য (ঙ), শিষ (হ)
  • ব্যাখ্যা: ‘ক’ উচ্চারণে জিভের পেছনের অংশ নরম তালু স্পর্শ করে বাতাস আটকায়।

খ) তালব্য ধ্বনি (Palatal Sounds)

  • উচ্চারণস্থান: শক্ত তালু।
  • উদাহরণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ
  • প্রণালি: স্পর্শ (চ-বর্গ), নাসিক্য (ঞ), শিষ (শ)
  • ব্যাখ্যা: ‘চ’ উচ্চারণে জিভের মাঝখান শক্ত তালু স্পর্শ করে।

গ) মূর্ধন্য ধ্বনি (Retroflex Sounds)

  • উচ্চারণস্থান: মূর্ধা (তালুর উঁচু অংশ)।
  • উদাহরণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র
  • প্রণালি: স্পর্শ (ট-বর্গ), নাসিক্য (ণ), কম্পিত (র)
  • ব্যাখ্যা: ‘ট’ উচ্চারণে জিভের ডগা উল্টে মূর্ধায় স্পর্শ করে।

ঘ) দন্ত্য ধ্বনি (Dental Sounds)

  • উচ্চারণস্থান: উপরের দাঁত।
  • উদাহরণ: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স
  • প্রণালি: স্পর্শ (ত-বর্গ), নাসিক্য (ন), পার্শ্বিক (ল), শিষ (স)
  • ব্যাখ্যা: ‘ত’ উচ্চারণে জিভের ডগা উপরের দাঁত স্পর্শ করে।

ঙ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি (Labial Sounds)

  • উচ্চারণস্থান: দুই ঠোঁট।
  • উদাহরণ: প, ফ, ব, ভ, ম
  • প্রণালি: স্পর্শ (প-বর্গ), নাসিক্য (ম)
  • ব্যাখ্যা: ‘প’ উচ্চারণে দুই ঠোঁট স্পর্শ করে বাতাস আটকায়।

🧠 গ্রামাটিক্যাল ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল (Rules & Tricks)

Trick 1: উচ্চারণস্থান মনে রাখার ছড়া

“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ,
মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ,
ঠোঁটে প-বর্গ—এই পাঁচ স্থান।”

Trick 2: ঘোষ ও অঘোষ চেনার শর্টকাট

  • গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করুন।
  • কম্পন পেলে → ঘোষ
  • কম্পন না পেলে → অঘোষ
    সূত্র:

“বর্গের ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৪র্থ-৫ম ঘোষ।”

Trick 3: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ চেনার কৌশল

  • বিজোড় স্থান (১ম, ৩য়, ৫ম) = অল্পপ্রাণ
  • জোড় স্থান (২য়, ৪র্থ) = মহাপ্রাণ
    শর্টকাট:

“বিজোড় অল্প, জোড় মহা।”

Trick 4: শিষ ধ্বনি মনে রাখার কৌশল

“শ ষ স হ—এই চার, শিষ ধ্বনির সার;
বাতাস ঘষা খেয়ে বের হয়, শন শন আওয়াজ।”

Trick 5: নাসিক্য ধ্বনি মনে রাখার ছড়া

“নাঙা ঞানি ণানু নানা মামা—
এই পাঁচ নাসিক্যের নাম।”

⚠️ ভুল যেখানে হয় (Common Mistakes)

  1. “হ” কে অঘোষ ভাবা: ‘হ’ ঘোষ ধ্বনি, কারণ গলা কাঁপে।
  2. “ব” কে দন্ত্য ভাবা: ‘ব’ ওষ্ঠ্য ধ্বনি, কারণ ঠোঁট স্পর্শ হয়।
  3. “র” কে তালব্য ভাবা: ‘র’ মূর্ধন্য ধ্বনি, জিভ উল্টে মূর্ধায় লাগে।
  4. “শ ষ স” কে অল্পপ্রাণ ভাবা: এরা মহাপ্রাণ ধ্বনি।
  5. “ড় ঢ়” কে স্পর্শ ধ্বনি ভাবা: এরা তাড়নজাত ধ্বনি।

📊 উদাহরণ সহ টেবিল (Examples with Explanation)

টেবিল ১: ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ সংক্রান্ত উদাহরণ (৩০টি)

ধ্বনিউচ্চারণস্থানউচ্চারণপ্রণালিঘোষ/অঘোষঅল্পপ্রাণ/মহাপ্রাণব্যাখ্যা
ককণ্ঠ্যস্পর্শঅঘোষঅল্পপ্রাণজিভের মূল কণ্ঠনালি স্পর্শ করে। [BCS 44th]
খকণ্ঠ্যস্পর্শঅঘোষমহাপ্রাণবাতাস বেশি লাগে।
গকণ্ঠ্যস্পর্শঘোষঅল্পপ্রাণগলা কাঁপে।
ঘকণ্ঠ্যস্পর্শঘোষমহাপ্রাণগলা কাঁপে ও বাতাস বেশি।
ঙকণ্ঠ্যনাসিক্যঘোষঅল্পপ্রাণনাক দিয়ে বাতাস বের হয়।
চতালব্যস্পর্শঅঘোষঅল্পপ্রাণজিভের মাঝখান তালু স্পর্শ করে।
ছতালব্যস্পর্শঅঘোষমহাপ্রাণবাতাস বেশি।
জতালব্যস্পর্শঘোষঅল্পপ্রাণগলা কাঁপে।
ঝতালব্যস্পর্শঘোষমহাপ্রাণগলা কাঁপে ও বাতাস বেশি।
ঞতালব্যনাসিক্যঘোষঅল্পপ্রাণনাক দিয়ে বাতাস।
টমূর্ধন্যস্পর্শঅঘোষঅল্পপ্রাণজিভ উল্টে মূর্ধায়।
ঠমূর্ধন্যস্পর্শঅঘোষমহাপ্রাণবাতাস বেশি।
ডমূর্ধন্যস্পর্শঘোষঅল্পপ্রাণগলা কাঁপে।
ঢমূর্ধন্যস্পর্শঘোষমহাপ্রাণগলা কাঁপে ও বাতাস বেশি।
ণমূর্ধন্যনাসিক্যঘোষঅল্পপ্রাণনাক দিয়ে বাতাস।
তদন্ত্যস্পর্শঅঘোষঅল্পপ্রাণজিভ দাঁতে স্পর্শ।
থদন্ত্যস্পর্শঅঘোষমহাপ্রাণবাতাস বেশি।
দদন্ত্যস্পর্শঘোষঅল্পপ্রাণগলা কাঁপে।
ধদন্ত্যস্পর্শঘোষমহাপ্রাণগলা কাঁপে ও বাতাস বেশি।
নদন্ত্যনাসিক্যঘোষঅল্পপ্রাণনাক দিয়ে বাতাস।
পওষ্ঠ্যস্পর্শঅঘোষঅল্পপ্রাণঠোঁট স্পর্শ।
ফওষ্ঠ্যস্পর্শঅঘোষমহাপ্রাণঠোঁট স্পর্শ, বাতাস বেশি।
বওষ্ঠ্যস্পর্শঘোষঅল্পপ্রাণঠোঁট স্পর্শ, গলা কাঁপে। [Primary 2023]
ভওষ্ঠ্যস্পর্শঘোষমহাপ্রাণঠোঁট স্পর্শ, গলা কাঁপে ও বাতাস বেশি।
মওষ্ঠ্যনাসিক্যঘোষঅল্পপ্রাণঠোঁট স্পর্শ, নাক দিয়ে বাতাস।
শতালব্যশিষঅঘোষমহাপ্রাণতালুতে শিস আওয়াজ। [SSC 2022]
ষমূর্ধন্যশিষঅঘোষমহাপ্রাণমূর্ধায় শিস আওয়াজ।
সদন্ত্যশিষঅঘোষমহাপ্রাণদাঁতে শিস আওয়াজ।
হকণ্ঠ্যশিষঘোষমহাপ্রাণকণ্ঠে শিস, গলা কাঁপে।
রমূর্ধন্যকম্পিতঘোষঅল্পপ্রাণজিভ কাঁপে।
লদন্ত্যপার্শ্বিকঘোষঅল্পপ্রাণজিভের পাশ দিয়ে বাতাস।
ড়মূর্ধন্যতাড়নজাতঘোষঅল্পপ্রাণজিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত।
ঢ়মূর্ধন্যতাড়নজাতঘোষঅল্পপ্রাণজিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত।
য়তালব্যঅন্তঃস্থঘোষঅল্পপ্রাণপ্রায় স্বরের মতো।

টেবিল ২: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সারসংক্ষেপ

উচ্চারণস্থানধ্বনিসমূহউচ্চারণপ্রণালি
কণ্ঠ্যক, খ, গ, ঘ, ঙ, হস্পর্শ, নাসিক্য, শিষ
তালব্যচ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, যস্পর্শ, নাসিক্য, শিষ, অন্তঃস্থ
মূর্ধন্যট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়স্পর্শ, নাসিক্য, কম্পিত, তাড়নজাত
দন্ত্যত, থ, দ, ধ, ন, ল, সস্পর্শ, নাসিক্য, পার্শ্বিক, শিষ
ওষ্ঠ্যপ, ফ, ব, ভ, মস্পর্শ, নাসিক্য

✍️ অনুশীলনী (Exercise)

A) বিগত সালের প্রশ্ন (MCQ)

১। নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি? [BCS 44th]
ক) ক
খ) চ
গ) ব
ঘ) ট

২। নাসিক্য ধ্বনি কোনটি? [Primary 2023]
ক) খ
খ) ঙ
গ) ঘ
ঘ) থ

৩। শিষ ধ্বনি কোনগুলো? [SSC 2022]
ক) য, র, ল
খ) শ, ষ, স, হ
গ) হ, ব, ম
ঘ) ক, খ, গ

৪। কোনটি তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি? [NTRCA 2020]
ক) ক
খ) ট
গ) চ
ঘ) প

৫। “ড়” ও “ঢ়” কী ধরনের ধ্বনি?
ক) স্পর্শ ধ্বনি
খ) তাড়নজাত ধ্বনি
গ) নাসিক্য ধ্বনি
ঘ) শিষ ধ্বনি

৬। মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি? [Primary 2017]
ক) ক
খ) গ
গ) ঘ
ঘ) ঙ

৭। “ল” ধ্বনিটি উচ্চারণে জিহ্বার ডগা দাঁতে লাগে, তাই এটি—
ক) মূর্ধন্য
খ) দন্ত্য
গ) তালব্য
ঘ) ওষ্ঠ্য

৮। “র” ধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কী ধরনের?
ক) কণ্ঠ্য
খ) তালব্য
গ) মূর্ধন্য
ঘ) দন্ত্য

৯। ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
ক) ক
খ) খ
গ) গ
ঘ) ঘ

১০। “হ” ধ্বনি কোন শ্রেণির?
ক) অঘোষ
খ) ঘোষ
গ) অল্পপ্রাণ
ঘ) নাসিক্য

১১। “ব” ধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কী?
ক) দন্ত্য
খ) তালব্য
গ) ওষ্ঠ্য
ঘ) মূর্ধন্য

১২। স্পর্শ ধ্বনি কয়টি?
ক) ২০টি
খ) ২২টি
গ) ২৫টি
ঘ) ৩০টি

১৩। নিচের কোনটি কম্পিত ধ্বনি?
ক) ল
খ) র
গ) য
ঘ) ব

১৪। “ণ” ধ্বনি কী ধরনের?
ক) দন্ত্য নাসিক্য
খ) মূর্ধন্য নাসিক্য
গ) তালব্য নাসিক্য
ঘ) ওষ্ঠ্য নাসিক্য

১৫। “য়” ধ্বনি উচ্চারণপ্রণালি অনুযায়ী কী?
ক) স্পর্শ
খ) নাসিক্য
গ) অন্তঃস্থ
ঘ) শিষ

B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Questions)

১। ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ কাকে বলে?
উত্তর: ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখবিবরের কোনো না কোনো স্থানে বাধা পেয়ে মুখ দিয়ে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ বলে। বাধার স্থান ও প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি হয়।

২। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের চারটি প্রধান উপাদান কী কী?
উত্তর:
১) উচ্চারণস্থান (কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট)
২) উচ্চারণপ্রণালি (স্পর্শ, নাসিক্য, শিষ, কম্পিত, তাড়নজাত, পার্শ্বিক)
৩) স্বরযন্ত্রের কম্পন (ঘোষ-অঘোষ)
৪) বায়ুর চাপ (অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ)

৩। ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি কীভাবে চেনা যায়?
উত্তর: গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করলে কম্পন পেলে ঘোষ, না পেলে অঘোষ। বর্গের ১ম-২য় বর্ণ অঘোষ, ৩য়-৫ম বর্ণ ঘোষ।

৪। শিষ ধ্বনি কাকে বলে? কোনগুলো শিষ ধ্বনি?
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে শিসের মতো আওয়াজ করে বের হয়, তাকে শিষ ধ্বনি বলে। বাংলায় শিষ ধ্বনি ৪টি—শ, ষ, স, হ।

৫। স্পর্শ ধ্বনি ও তাড়নজাত ধ্বনির পার্থক্য কী?
উত্তর: স্পর্শ ধ্বনি উচ্চারণে জিভ বা ঠোঁট মুখবিবরের কোনো স্থানে পূর্ণ স্পর্শ করে বাতাস আটকে দেয় (ক-বর্গ থেকে প-বর্গ, ২৫টি)। তাড়নজাত ধ্বনি উচ্চারণে জিভের ডগা দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে (ড়, ঢ়)।

৬। নাসিক্য ধ্বনি কয়টি ও কী কী?
উত্তর: নাসিক্য ধ্বনি ৫টি—ঙ, ঞ, ণ, ন, ম। এরা উচ্চারণে নাক দিয়ে বাতাস বের হয়।

৭। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ৫ প্রকার—কণ্ঠ্য (ক-বর্গ), তালব্য (চ-বর্গ), মূর্ধন্য (ট-বর্গ), দন্ত্য (ত-বর্গ), ওষ্ঠ্য (প-বর্গ)।

C) উত্তরমালা (Answer Key with Explanation)

১. গ) ব
ব্যাখ্যা: ব ওষ্ঠ্য বর্গের ৩য়, ঘোষ।

২. খ) ঙ
ব্যাখ্যা: ঙ নাসিক্য ধ্বনি।

৩. খ) শ, ষ, স, হ
ব্যাখ্যা: এদের উচ্চারণে শিস আওয়াজ।

৪. গ) চ
ব্যাখ্যা: চ-বর্গ তালব্য।

৫. খ) তাড়নজাত
ব্যাখ্যা: জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে।

৬. গ) ঘ
ব্যাখ্যা: ঘ বর্গের ৪র্থ, মহাপ্রাণ।

৭. খ) দন্ত্য
ব্যাখ্যা: ল উচ্চারণে জিভ দাঁত স্পর্শ।

৮. গ) মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা: র উচ্চারণে জিভ উল্টে মূর্ধায়।

৯. ঘ) ঘ
ব্যাখ্যা: ঘ বর্গের ৪র্থ, ঘোষ মহাপ্রাণ।

১০. খ) ঘোষ
ব্যাখ্যা: হ উচ্চারণে গলা কাঁপে।

১১. গ) ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা: ব উচ্চারণে ঠোঁট স্পর্শ।

১২. গ) ২৫টি
ব্যাখ্যা: ক-বর্গ থেকে প-বর্গ ২৫টি।

১৩. খ) র
ব্যাখ্যা: র কম্পিত ধ্বনি।

১৪. খ) মূর্ধন্য নাসিক্য
ব্যাখ্যা: ণ মূর্ধায় উচ্চারিত নাসিক্য।

১৫. গ) অন্তঃস্থ
ব্যাখ্যা: য় স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি।


❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বাধা কোথায় হয়?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখবিবরের ৫টি স্থানে বাধা হয়—কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত, ঠোঁট।

প্রশ্ন ২: ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি কীভাবে চিনব?
উত্তর: গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করুন। কম্পন পেলে ঘোষ, না পেলে অঘোষ। বর্গের ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৫ম ঘোষ।

প্রশ্ন ৩: শিষ ধ্বনি কী?
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে শিসের মতো আওয়াজ করে বের হয়, তাকে শিষ ধ্বনি বলে। বাংলায় ৪টি—শ, ষ, স, হ।

প্রশ্ন ৪: স্পর্শ ধ্বনি ও শিষ ধ্বনির পার্থক্য কী?
উত্তর: স্পর্শ ধ্বনিতে বাতাস পূর্ণভাবে বন্ধ হয় (ক-বর্গ থেকে প-বর্গ); শিষ ধ্বনিতে বাতাস সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে বের হয় (শ, ষ, স, হ)।


🏁 উপসংহার (Conclusion)

প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ আমরা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। মনে রাখার মূল সূত্র:

“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ, মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ, ঠোঁটে প-বর্গ।”
“বিজোড় অল্প, জোড় মহা; ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৫ম ঘোষ।”

এই ট্রিকসগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ থেকে আসা সব প্রশ্নে আপনি পূর্ণ নম্বর পাবেন। সফলতা আপনার হবেই।

লেখক: ToLearnTeam.com শিক্ষা বিভাগ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply