ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণ: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, উচ্চারণস্থান এবং বিগত সালের প্রশ্নোত্তর (সম্পূর্ণ গাইড)
📚 ভূমিকা (Introduction)
প্রিয় শিক্ষার্থী, বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনি যেমন শব্দের প্রাণ, তেমনি ব্যঞ্জনধ্বনি হলো শব্দের কাঠামো। স্বরধ্বনি ছাড়া ব্যঞ্জনধ্বনি পূর্ণরূপে উচ্চারিত হতে পারে না, আবার ব্যঞ্জনধ্বনি ছাড়া শব্দের মূল কাঠামো গঠিত হয় না। পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণ থেকে ঘোষ-অঘোষ, অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ, উচ্চারণস্থান, স্পর্শ-শিষ-নাসিক্য—এসব নিয়ে প্রতি বছর প্রশ্ন আসে। আজকের লেকচারে আমরা এই বিশাল অধ্যায়টি সহজ সংজ্ঞা, টেবিল ও ট্রিকসের মাধ্যমে আয়ত্ত করব।
কেন এই অধ্যায় পরীক্ষার জন্য জরুরি?
বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিএস প্রিলিমিনারি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ, এসএসসি-এইচএসসি বোর্ড এবং ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে প্রতি বছর ২-৪টি প্রশ্ন আসে। যেমন—
- [BCS 44th] তে এসেছিল “নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি?”
- [Primary 2023] তে এসেছিল “ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?”
- [SSC 2022] তে এসেছিল “শিষ ধ্বনি কোনগুলো?”
- [NTRCA 2020] তে এসেছিল “তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?”
সুতরাং, এই অধ্যায়ে দখল থাকলে আপনি সহজেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ নম্বর নিশ্চিত করতে পারবেন।
🎯 শিখনফল (Learning Objectives)
এই লেকচার শেষে আপনি—
- ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংজ্ঞা ও পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবেন।
- ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদ—উচ্চারণস্থান, উচ্চারণপ্রণালি, ঘোষ-অঘোষ, অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ সবই আয়ত্ত করতে পারবেন।
- স্পর্শ, শিষ, নাসিক্য, তাড়নজাত, পার্শ্বিক, কম্পিত ধ্বনি চেনার কৌশল রপ্ত করবেন।
- ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকা ও শ্রেণিবিভাগ মনে রাখতে পারবেন।
- বিগত সালের প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারবেন।
📖 প্রধান আলোচনা (Main Discussion)
১. ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে? (Definition of Benjandhoni)
সহজ সংজ্ঞা
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখবিবরের কোথাও না কোথাও বাধা পায়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। যেমন— ক, খ, গ, চ, ছ, ট, প ইত্যাদি। এই ধ্বনিগুলো স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া পূর্ণরূপে উচ্চারিত হতে পারে না।
ভাষাবিদদের সংজ্ঞা (Linguistic Reference)
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থে বলেছেন—
“যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা পায়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।”
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে—
“শ্বাসবায়ু মুখবিবরের কোনো না কোনো স্থানে পূর্ণ বা আংশিক বাধাপ্রাপ্ত হলে যে ধ্বনি উৎপন্ন হয়, তাই ব্যঞ্জনধ্বনি।”
(সূত্র: ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা)
এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী—
“যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখবিবরে কোথাও বাধা পায় এবং স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া পূর্ণরূপে উচ্চারিত হতে পারে না, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।”
ভাষাবিদদের মতে—
“ব্যঞ্জনধ্বনি হলো বাকযন্ত্রের প্রতিবন্ধকতাযুক্ত বায়ুপ্রবাহের ফল; এরা স্বরধ্বনির সাথে যুক্ত হয়ে শব্দ গঠন করে।”
২. ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে? (Definition of Benjonborno)
সহজ সংজ্ঞা
ব্যঞ্জনধ্বনিকে লেখার জন্য যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। যেমন— ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
ভাষাবিদদের সংজ্ঞা (Linguistic Reference)
এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী—
“ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত রূপকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে।”
ভাষাবিদদের মতে—
“ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ব্যঞ্জনধ্বনির দৃশ্যমান রূপ; ধ্বনি কানে শোনা যায়, বর্ণ চোখে দেখা যায়।”
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণের পার্থক্য (Difference)
| বিষয় | ব্যঞ্জনধ্বনি (Sound) | ব্যঞ্জনবর্ণ (Letter) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | মুখবিবরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে উচ্চারিত শব্দ। | ব্যঞ্জনধ্বনি লেখার সাংকেতিক চিহ্ন। |
| অস্তিত্ব | কানে শোনা যায়। | চোখে দেখা যায়। |
| সংখ্যা | উচ্চারণভেদে অনেক রূপ। | নির্দিষ্ট ৩৯টি। |
| নির্ভরশীলতা | ভাষার উপর। | লিপির উপর। |
| উদাহরণ | মুখে বলা ‘ক’, ‘খ’, ‘চ’। | লেখায় ‘ক’, ‘খ’, ‘চ’। |
মনে রাখার কৌশল:
“ব্যঞ্জনধ্বনি কানে, ব্যঞ্জনবর্ণ চোখে।”
৪. ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকা (List of 39 Benjonborno)
৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ
বিঃদ্র: ৎ (খণ্ড ত), ং (অনুস্বার), ঃ (বিসর্গ), ঁ (চন্দ্রবিন্দু)—এগুলো ব্যঞ্জনধ্বনির বিশেষ রূপ নির্দেশ করে।
৫. ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদ (Classification of Benjandhoni)
ক) উচ্চারণস্থান অনুযায়ী (Place of Articulation)
| উচ্চারণস্থান | ধ্বনিসমূহ | মনে রাখার কৌশল |
|---|---|---|
| কণ্ঠ্য | ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ | “ক” বর্গ + হ |
| তালব্য | চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ | “চ” বর্গ + শ |
| মূর্ধন্য | ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র | “ট” বর্গ + র |
| দন্ত্য | ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স | “ত” বর্গ + ল + স |
| ওষ্ঠ্য | প, ফ, ব, ভ, ম | “প” বর্গ + ম |
খ) উচ্চারণপ্রণালি অনুযায়ী (Manner of Articulation)
- স্পর্শ ধ্বনি (Plosive/Stop): ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্গীয় ধ্বনি।
- নাসিক্য ধ্বনি (Nasal): ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (প্রতি বর্গের শেষ বর্ণ)।
- শিষ ধ্বনি (Fricative): শ, ষ, স, হ (বাতাস ঘষা খেয়ে বের হয়)।
- কম্পিত ধ্বনি (Trill): র (জিভ কাঁপে)।
- তাড়নজাত ধ্বনি (Tap/Flap): ড়, ঢ় (জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে)।
- পার্শ্বিক ধ্বনি (Lateral): ল (জিভের দুপাশ দিয়ে বাতাস বের হয়)।
- অন্তঃস্থ ধ্বনি (Semi-vowel): য, ব, য় (স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি)।
গ) ঘোষ ও অঘোষ অনুযায়ী (Voicing)
- ঘোষ ধ্বনি: উচ্চারণে স্বরযন্ত্র কম্পিত হয় → গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, র, ল, হ, ড়, ঢ়, য়
- অঘোষ ধ্বনি: উচ্চারণে স্বরযন্ত্র কম্পিত হয় না → ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স
ঘ) অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ অনুযায়ী (Aspiration)
- অল্পপ্রাণ: উচ্চারণে বাতাস কম → ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ, ট, ড, ণ, ত, দ, ন, প, ব, ম, য, র, ল, ব, হ, ড়, ঢ়, য়
- মহাপ্রাণ: উচ্চারণে বাতাস বেশি → খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ, শ, ষ, স
🧠 গ্রামাটিক্যাল ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল (Rules & Tricks)
Trick 1: ব্যঞ্জনধ্বনি চেনার জাদু
- উচ্চারণের সময় ঠোঁট, দাঁত, জিহ্বা, তালু বাধা দিলে → ব্যঞ্জনধ্বনি।
- বাধা না পেলে → স্বরধ্বনি।
শর্টকাট:
“বাধা আছে = ব্যঞ্জন, বাধা নেই = স্বর।”
Trick 2: ঘোষ ও অঘোষ চেনার শর্টকাট
- গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করুন।
- কম্পন পেলে → ঘোষ
- কম্পন না পেলে → অঘোষ
সূত্র:
“বর্গের ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৪র্থ-৫ম ঘোষ।”
Trick 3: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ চেনার কৌশল
- বিজোড় স্থান (১ম, ৩য়, ৫ম) = অল্পপ্রাণ
- জোড় স্থান (২য়, ৪র্থ) = মহাপ্রাণ
শর্টকাট:
“বিজোড় অল্প, জোড় মহা।”
Trick 4: উচ্চারণস্থান মনে রাখার ছড়া
“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ, মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ, ঠোঁটে প-বর্গ।”
Trick 5: শিষ ধ্বনি মনে রাখার কৌশল
“শ ষ স হ—এই চার, শিষ ধ্বনির সার।”
(এদের উচ্চারণে শন শন আওয়াজ হয়)
⚠️ ভুল যেখানে হয় (Common Mistakes)
- “হ” কে অঘোষ ভাবা: ‘হ’ ঘোষ ধ্বনি, কারণ উচ্চারণে গলা কাঁপে।
- “ব” কে দন্ত্য ভাবা: ‘ব’ ওষ্ঠ্য ধ্বনি, কারণ ঠোঁট স্পর্শ হয়।
- “র” কে তালব্য ভাবা: ‘র’ মূর্ধন্য ধ্বনি, কারণ জিভ উল্টে মূর্ধায় লাগে।
- “শ ষ স” কে অল্পপ্রাণ ভাবা: এরা মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- “ড় ঢ়” কে স্পর্শ ধ্বনি ভাবা: এরা তাড়নজাত ধ্বনি।
📊 উদাহরণ সহ টেবিল (Examples with Explanation)
টেবিল ১: ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকারভেদ ও উদাহরণ (৩০টি)
| ধ্বনি | প্রকার/শ্রেণি | ব্যাখ্যা (কেন এই শ্রেণিতে পড়ে?) |
|---|---|---|
| ক | কণ্ঠ্য, অঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | গলা কাঁপে না, বাতাস কম। [BCS 44th] |
| খ | কণ্ঠ্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | গলা কাঁপে না, বাতাস বেশি। |
| গ | কণ্ঠ্য, ঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | গলা কাঁপে, বাতাস কম। |
| ঘ | কণ্ঠ্য, ঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | গলা কাঁপে, বাতাস বেশি। |
| ঙ | কণ্ঠ্য, ঘোষ, নাসিক্য | নাক দিয়ে বাতাস বের হয়। |
| চ | তালব্য, অঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | তালুতে বাধা, গলা কাঁপে না। |
| ছ | তালব্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | তালুতে বাধা, বাতাস বেশি। |
| জ | তালব্য, ঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | তালুতে বাধা, গলা কাঁপে। |
| ঝ | তালব্য, ঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | তালুতে বাধা, গলা কাঁপে ও বাতাস বেশি। |
| ঞ | তালব্য, ঘোষ, নাসিক্য | নাক দিয়ে বাতাস বের হয়। |
| ট | মূর্ধন্য, অঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | মূর্ধায় জিভ ঠেকে, গলা কাঁপে না। |
| ঠ | মূর্ধন্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | মূর্ধায় জিভ ঠেকে, বাতাস বেশি। |
| ড | মূর্ধন্য, ঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | মূর্ধায় জিভ ঠেকে, গলা কাঁপে। |
| ঢ | মূর্ধন্য, ঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | মূর্ধায় জিভ ঠেকে, গলা কাঁপে ও বাতাস বেশি। |
| ণ | মূর্ধন্য, ঘোষ, নাসিক্য | মূর্ধায় জিভ ঠেকে, নাক দিয়ে বাতাস বের হয়। |
| ত | দন্ত্য, অঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | দাঁতে জিভ ঠেকে, গলা কাঁপে না। |
| থ | দন্ত্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | দাঁতে জিভ ঠেকে, বাতাস বেশি। |
| দ | দন্ত্য, ঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | দাঁতে জিভ ঠেকে, গলা কাঁপে। |
| ধ | দন্ত্য, ঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | দাঁতে জিভ ঠেকে, গলা কাঁপে ও বাতাস বেশি। |
| ন | দন্ত্য, ঘোষ, নাসিক্য | দাঁতে জিভ ঠেকে, নাক দিয়ে বাতাস বের হয়। |
| প | ওষ্ঠ্য, অঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | ঠোঁট স্পর্শ, গলা কাঁপে না। |
| ফ | ওষ্ঠ্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | ঠোঁট স্পর্শ, বাতাস বেশি। |
| ব | ওষ্ঠ্য, ঘোষ, অল্পপ্রাণ, স্পর্শ | ঠোঁট স্পর্শ, গলা কাঁপে। [Primary 2023] |
| ভ | ওষ্ঠ্য, ঘোষ, মহাপ্রাণ, স্পর্শ | ঠোঁট স্পর্শ, গলা কাঁপে ও বাতাস বেশি। |
| ম | ওষ্ঠ্য, ঘোষ, নাসিক্য | ঠোঁট স্পর্শ, নাক দিয়ে বাতাস বের হয়। |
| য | তালব্য, ঘোষ, অন্তঃস্থ | তালুর কাছে, গলা কাঁপে। |
| র | মূর্ধন্য, ঘোষ, কম্পিত | জিভ কাঁপে, গলা কাঁপে। |
| ল | দন্ত্য, ঘোষ, পার্শ্বিক | দাঁতে জিভ, পাশ দিয়ে বাতাস। |
| শ | তালব্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, শিষ | শিষ আওয়াজ, বাতাস বেশি। |
| ষ | মূর্ধন্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, শিষ | শিষ আওয়াজ, মূর্ধায়। |
| স | দন্ত্য, অঘোষ, মহাপ্রাণ, শিষ | দাঁতে শিষ আওয়াজ। |
| হ | কণ্ঠ্য, ঘোষ, শিষ | গলা কাঁপে, শিস আওয়াজ। |
| ড় | মূর্ধন্য, ঘোষ, তাড়নজাত | জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে। |
| ঢ় | মূর্ধন্য, ঘোষ, তাড়নজাত | জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে। |
| য় | তালব্য, ঘোষ, অন্তঃস্থ | প্রায় স্বরের মতো, গলা কাঁপে। |
টেবিল ২: ব্যঞ্জনবর্ণের শ্রেণিবিভাগ এক নজরে
| শ্রেণি | বর্ণসমূহ | সংখ্যা |
|---|---|---|
| স্পর্শ ধ্বনি | ক-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ, প-বর্গ | ২৫টি |
| নাসিক্য ধ্বনি | ঙ, ঞ, ণ, ন, ম | ৫টি |
| শিষ ধ্বনি | শ, ষ, স, হ | ৪টি |
| কম্পিত ধ্বনি | র | ১টি |
| তাড়নজাত ধ্বনি | ড়, ঢ় | ২টি |
| পার্শ্বিক ধ্বনি | ল | ১টি |
| অন্তঃস্থ ধ্বনি | য, ব, য় | ৩টি |
✍️ অনুশীলনী (Exercise)
A) বিগত সালের প্রশ্ন (MCQ)
১। ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি? [Primary 2023]
ক) ৩৭টি
খ) ৩৮টি
গ) ৩৯টি
ঘ) ৪০টি
২। নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি? [BCS 44th]
ক) ক
খ) চ
গ) ব
ঘ) ট
৩। কোনটি তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি? [NTRCA 2020]
ক) ক
খ) ট
গ) চ
ঘ) প
৪। শিষ ধ্বনি কোনগুলো? [SSC 2022]
ক) য, র, ল
খ) শ, ষ, স, হ
গ) হ, ব, ম
ঘ) ক, খ, গ
৫। “ড়” ও “ঢ়” কী ধরনের ধ্বনি? [BCS 44th]
ক) স্পর্শ ধ্বনি
খ) তাড়নজাত ধ্বনি
গ) নাসিক্য ধ্বনি
ঘ) শিষ ধ্বনি
৬। নিচের কোনটি নাসিক্য ধ্বনি?
ক) খ
খ) ঙ
গ) ঘ
ঘ) থ
৭। নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনি? [Primary 2017]
ক) ক
খ) গ
গ) ঘ
ঘ) ঙ
৮। “ল” ধ্বনিটি উচ্চারণে জিহ্বার ডগা দাঁতে লাগে, তাই এটি—
ক) মূর্ধন্য
খ) দন্ত্য
গ) তালব্য
ঘ) ওষ্ঠ্য
৯। “র” ধ্বনি উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কী ধরনের?
ক) কণ্ঠ্য
খ) তালব্য
গ) মূর্ধন্য
ঘ) দন্ত্য
১০। নিচের কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
ক) ক
খ) খ
গ) গ
ঘ) ঘ
১১। ‘য়’ ধ্বনিটি কী ধরনের?
ক) স্পর্শ
খ) নাসিক্য
গ) অন্তঃস্থ
ঘ) শিষ
১২। স্পর্শ ধ্বনি কয়টি?
ক) ২০টি
খ) ২২টি
গ) ২৫টি
ঘ) ৩০টি
১৩। কোন বর্ণটি দন্ত্য ধ্বনি নয়?
ক) ত
খ) থ
গ) দ
ঘ) ড
১৪। “হ” ধ্বনি কোন শ্রেণির?
ক) অঘোষ
খ) ঘোষ
গ) অল্পপ্রাণ
ঘ) নাসিক্য
১৫। “ক্ষ” কোন ধরনের ধ্বনি?
ক) যুক্ত ব্যঞ্জন
খ) স্পর্শ ধ্বনি
গ) শিষ ধ্বনি
ঘ) নাসিক্য ধ্বনি
B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Questions)
১। ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখবিবরের কোথাও না কোথাও বাধা পায়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। উদাহরণ: ক, খ, গ, চ, ছ, প, ম।
২। ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনি মুখে উচ্চারিত শব্দ, কানে শোনা যায়; ব্যঞ্জনবর্ণ হলো সেই ধ্বনি লেখার সাংকেতিক চিহ্ন, চোখে দেখা যায়। ধ্বনি উচ্চারণভেদে অনেক, বর্ণ নির্দিষ্ট ৩৯টি।
৩। ঘোষ ও অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরযন্ত্র কম্পিত হয়, তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে (গ, জ, ব, ম)। যে ধ্বনি উচ্চারণে স্বরযন্ত্র কম্পিত হয় না, তাকে অঘোষ ধ্বনি বলে (ক, চ, প, শ)।
৪। অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনির পার্থক্য লেখো।
উত্তর: উচ্চারণে বাতাস কম লাগলে অল্পপ্রাণ (ক, গ, চ); বেশি লাগলে মহাপ্রাণ (খ, ঘ, ছ)। প্রতি বর্গের ১ম, ৩য়, ৫ম বর্ণ অল্পপ্রাণ; ২য় ও ৪র্থ বর্ণ মহাপ্রাণ।
৫। শিষ ধ্বনি কাকে বলে? কোনগুলো শিষ ধ্বনি?
উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস মুখবিবরের কোনো সংকীর্ণ পথে ঘষা খেয়ে শিসের মতো আওয়াজ করে বের হয়, তাকে শিষ ধ্বনি বলে। বাংলায় শিষ ধ্বনি ৪টি—শ, ষ, স, হ।
৬। স্পর্শ ধ্বনি ও তাড়নজাত ধ্বনির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: স্পর্শ ধ্বনি উচ্চারণে জিভ বা ঠোঁট মুখবিবরের কোনো স্থানে পূর্ণ স্পর্শ করে বাতাস আটকে দেয় (ক-বর্গ থেকে প-বর্গ, ২৫টি)। তাড়নজাত ধ্বনি উচ্চারণে জিভের ডগা দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে (ড়, ঢ়)।
৭। ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাধা কোথায় কোথায় হতে পারে?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখবিবরের ৫টি স্থানে বাধা হতে পারে—কণ্ঠ (ক-বর্গ), তালু (চ-বর্গ), মূর্ধা (ট-বর্গ), দাঁত (ত-বর্গ), ঠোঁট (প-বর্গ)।
C) উত্তরমালা (Answer Key with Explanation)
১. গ) ৩৯টি
ব্যাখ্যা: বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
২. গ) ব
ব্যাখ্যা: ব ওষ্ঠ্য বর্গের ৩য় ধ্বনি, ঘোষ।
৩. গ) চ
ব্যাখ্যা: চ-বর্গের ধ্বনি তালব্য।
৪. খ) শ, ষ, স, হ
ব্যাখ্যা: এদের উচ্চারণে শিস আওয়াজ হয়।
৫. খ) তাড়নজাত ধ্বনি
ব্যাখ্যা: জিহ্বার ডগা দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে।
৬. খ) ঙ
ব্যাখ্যা: ঙ নাসিক্য ধ্বনি, নাক দিয়ে বাতাস বের হয়।
৭. গ) ঘ
ব্যাখ্যা: ঘ বর্গের ৪র্থ, মহাপ্রাণ।
৮. খ) দন্ত্য
ব্যাখ্যা: ল উচ্চারণে জিহ্বার ডগা দাঁত স্পর্শ করে।
৯. গ) মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা: র উচ্চারণে জিভ উল্টে মূর্ধায় লাগে।
১০. ঘ) ঘ
ব্যাখ্যা: ঘ বর্গের ৪র্থ, ঘোষ ও মহাপ্রাণ।
১১. গ) অন্তঃস্থ
ব্যাখ্যা: য় স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝামাঝি।
১২. গ) ২৫টি
ব্যাখ্যা: ক-বর্গ থেকে প-বর্গ পর্যন্ত ২৫টি স্পর্শ ধ্বনি।
১৩. ঘ) ড
ব্যাখ্যা: ড মূর্ধন্য ধ্বনি, দন্ত্য নয়।
১৪. খ) ঘোষ
ব্যাখ্যা: হ উচ্চারণে গলা কাঁপে, তাই ঘোষ।
১৫. ক) যুক্ত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা: ক্ষ = ক + ষ, যুক্ত ব্যঞ্জন।
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণ কি একই?
উত্তর: না। ব্যঞ্জনধ্বনি মুখে উচ্চারিত শব্দ (কানে শোনা যায়), ব্যঞ্জনবর্ণ তার লিখিত চিহ্ন (চোখে দেখা যায়)।
প্রশ্ন ২: বাংলায় ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
উত্তর: বাংলায় ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
প্রশ্ন ৩: ঘোষ ও অঘোষ ধ্বনি কীভাবে চিনব?
উত্তর: গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করুন। কম্পন পেলে ঘোষ, না পেলে অঘোষ। বর্গের ১ম-২য় বর্ণ অঘোষ, ৩য়-৫ম বর্ণ ঘোষ।
প্রশ্ন ৪: ‘হ’ কি শিষ ধ্বনি?
উত্তর: হ্যাঁ। ‘হ’ একটি শিষ ধ্বনি, তবে এটি ঘোষ শিষ ধ্বনি (উচ্চারণে গলা কাঁপে)।
প্রশ্ন ৫: ‘ড়’ ও ‘ঢ়’ কি স্পর্শ ধ্বনি?
উত্তর: না। এরা তাড়নজাত ধ্বনি, কারণ উচ্চারণে জিভ দ্রুত মূর্ধায় আঘাত করে।
🏁 উপসংহার (Conclusion)
প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ আমরা ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। মনে রাখার মূল ছড়া:
“কণ্ঠে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ, মূর্ধায় ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ, ঠোঁটে প-বর্গ।”
“বিজোড় অল্প, জোড় মহা; ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৫ম ঘোষ।”
এই ট্রিকসগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে আসা সব প্রশ্নে আপনি পূর্ণ নম্বর পাবেন। সফলতা আপনার হবেই।
লেখক: ToLearnTeam.com শিক্ষা বিভাগ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


