শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে স্বরধ্বনির উচ্চারণে জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান দেখাচ্ছেন
শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে স্বরধ্বনির উচ্চারণে জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান দেখাচ্ছেন

স্বরধ্বনির উচ্চারণ কাকে বলে? চেনার সহজ কৌশল

স্বরধ্বনির উচ্চারণ: জিভ, ঠোঁট ও মুখবিবরের অবস্থান অনুযায়ী সম্পূর্ণ গাইড (বিগত প্রশ্নোত্তর সহ)

📚 ভূমিকা (Introduction)

প্রিয় শিক্ষার্থী, বাংলা ভাষার প্রতিটি স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় আমাদের মুখের ভেতরে জিভ, ঠোঁট, চোয়াল নানা অবস্থানে থাকে। যেমন— ‘ই’ বলার সময় জিভ সামনে উঠে আসে, আর ‘উ’ বলার সময় ঠোঁট গোল হয়ে যায়। এই উচ্চারণের সূক্ষ্ম বিজ্ঞানই স্বরধ্বনির উচ্চারণ। পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কোন স্বর কোথায় উচ্চারিত হয়, জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান, সম্মুখ-পশ্চাৎ, উচ্চ-নিম্ন—এসব প্রশ্ন আসে।

কেন এই অধ্যায় পরীক্ষার জন্য জরুরি?
বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিএস প্রিলিমিনারি, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ, এসএসসি-এইচএসসি বোর্ড এবং ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় স্বরধ্বনির উচ্চারণ থেকে প্রতি বছর ১-২টি প্রশ্ন আসে। যেমন—

  • [BCS 44th] তে এসেছিল “কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ সামনে থাকে?”
  • [Primary 2023] তে এসেছিল “উচ্চ স্বরধ্বনি কোনটি?”
  • [SSC 2022] তে এসেছিল “গোলাকার স্বরধ্বনি কোনগুলো?”
  • [NTRCA 2020] তে এসেছিল “‘আ’ উচ্চারণে জিভ কোথায় থাকে?”

আজকের লেকচারে আমরা স্বরধ্বনি উচ্চারণের নিয়ম, জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান, এবং মনে রাখার শর্টকাট কৌশল শিখব।


🎯 শিখনফল (Learning Objectives)

এই লেকচার শেষে আপনি—

  1. স্বরধ্বনি উচ্চারণের মূলনীতি ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
  2. জিভের উচ্চতা ও অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করতে পারবেন।
  3. ঠোঁটের আকৃতি অনুযায়ী গোলাকার ও অগোলাকার স্বর চিনতে পারবেন।
  4. হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরের উচ্চারণ পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
  5. বিগত সালের প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারবেন।

📖 প্রধান আলোচনা (Main Discussion)

১. স্বরধ্বনির উচ্চারণ কাকে বলে? (Definition of Sorodhonir Uccharon)

সহজ সংজ্ঞা

স্বরধ্বনির উচ্চারণ হলো মুখবিবরের বিভিন্ন স্থানে জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান পরিবর্তন করে স্বরধ্বনিগুলোকে স্পষ্ট ও ভিন্নভাবে উচ্চারণ করার প্রক্রিয়া। স্বরধ্বনি উচ্চারণে বাতাস কোথাও বাধা পায় না; কেবল জিভের উচ্চতা, জিভের সামনে-পেছনে অবস্থান এবং ঠোঁটের গোল-চ্যাপ্টা ভাব পাল্টে ধ্বনির ভিন্নতা তৈরি হয়।

ভাষাবিদদের সংজ্ঞা (Linguistic Reference)

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর “বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত” গ্রন্থে বলেছেন—
“স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু মুখবিবরে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হয় না; কেবল জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান পরিবর্তনে স্বরধ্বনির ভিন্নতা নির্ধারিত হয়।”

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে—
“বাংলা স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের ভেতরে জিভ যে স্থানে থাকে এবং মুখ যে পরিমাণ খোলা থাকে, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ করা হয়।”
(সূত্র: ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা)

এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী—
“স্বরধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস তাড়িত বাতাস মুখবিবরে বাধা পায় না; জিভ ও ঠোঁটের বিভিন্ন অবস্থান থেকে বিভিন্ন স্বরধ্বনি উৎপন্ন হয়।”

ভাষাবিদদের মতে—
“স্বরধ্বনি উচ্চারণের তিনটি প্রধান উপাদান—জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থান ও ঠোঁটের আকৃতি; এই তিনটি উপাদানই স্বরধ্বনির প্রকৃতি নির্ধারণ করে।”


২. স্বরধ্বনি উচ্চারণের তিনটি মূল উপাদান (Three Key Factors)

ক) জিভের উচ্চতা (Tongue Height)

জিভ মুখের ভেতরে কতটা উঁচু বা নিচু থাকে, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি শ্রেণিবদ্ধ হয়।

  • উচ্চ স্বর: জিভ খুব উঁচুতে থাকে → ই, ঈ, উ, ঊ
  • মধ্য স্বর: জিভ মাঝামাঝি থাকে → এ, ঐ, ও, ঔ
  • নিম্ন স্বর: জিভ নিচে থাকে → আ, অ্যা
  • নিম্ন-মধ্য স্বর: জিভ কিছুটা নিচু → অ

খ) জিভের সামনে-পেছনে অবস্থান (Tongue Position)

জিভ মুখের ভেতরে সামনে, মাঝে বা পেছনে থাকে।

  • সম্মুখ স্বর: জিভ শক্ত তালুর দিকে সামনে থাকে → ই, ঈ, এ, ঐ
  • কেন্দ্রীয় স্বর: জিভ মাঝখানে থাকে → আ
  • পশ্চাৎ স্বর: জিভ নরম তালুর দিকে পেছনে থাকে → অ, উ, ঊ, ও, ঔ

গ) ঠোঁটের আকৃতি (Lip Rounding)

ঠোঁট গোল বা চ্যাপ্টা থাকে।

  • গোলাকার (বৃত্তাকার): ঠোঁট সামনে এগিয়ে গোল হয় → উ, ঊ, ও, ঐ
  • অগোলাকার (অবৃত্তাকার): ঠোঁট চ্যাপ্টা বা স্বাভাবিক থাকে → অ, আ, ই, ঈ, এ, ঋ, ঔ

৩. স্বরধ্বনির উচ্চারণস্থান ও উচ্চারণপ্রণালি (Articulation of Bangla Vowels)

প্রধান স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণ বিশ্লেষণ

ই (i)

  • জিভের উচ্চতা: উচ্চ
  • জিভের অবস্থান: সম্মুখ
  • ঠোঁট: অগোলাকার (চ্যাপ্টা)
  • উচ্চারণ: জিভ সামনে এগিয়ে শক্ত তালুর কাছে ওঠে, ঠোঁট চ্যাপ্টা থাকে।
  • উদাহরণ: ইতি, দিন, পিক।

ঈ (iː)

  • জিভের উচ্চতা: উচ্চ
  • জিভের অবস্থান: সম্মুখ
  • ঠোঁট: অগোলাকার
  • উচ্চারণ: ‘ই’-এর মতো, তবে দীর্ঘ।
  • উদাহরণ: ঈদ, নদী, চীন।

এ (e/æ)

  • জিভের উচ্চতা: মধ্য
  • জিভের অবস্থান: সম্মুখ
  • ঠোঁট: অগোলাকার
  • উচ্চারণ: জিভ সামনে মাঝামাঝি থাকে, ‘অ্যা’-এর চেয়ে উঁচু।
  • উদাহরণ: এক, দেশ, বেল।

অ্যা (æ)

  • জিভের উচ্চতা: নিম্ন
  • জিভের অবস্থান: সম্মুখ
  • ঠোঁট: অগোলাকার
  • উচ্চারণ: মুখ প্রায় খোলা, জিভ সামনে নিচু, ‘এ’ থেকে নিচু।
  • উদাহরণ: অ্যালবাম, অ্যাম্বুলেন্স, ট্যাক্সি।

আ (a)

  • জিভের উচ্চতা: নিম্ন
  • জিভের অবস্থান: কেন্দ্রীয়
  • ঠোঁট: অগোলাকার
  • উচ্চারণ: মুখ পুরোপুরি খোলা, জিভ মাঝে নিচে থাকে।
  • উদাহরণ: আম, কাল, ভাত।

অ (ɔ/o)

  • জিভের উচ্চতা: নিম্ন-মধ্য
  • জিভের অবস্থান: পশ্চাৎ
  • ঠোঁট: অগোলাকার
  • উচ্চারণ: জিভ পেছনে কিছুটা নিচু, মুখ মাঝারি খোলা।
  • উদাহরণ: অমৃত, কলম, জল। (মনে রাখবেন: ‘অ’ অনেক সময় ‘ও’-এর মতো শোনায়)

ও (o)

  • জিভের উচ্চতা: মধ্য
  • জিভের অবস্থান: পশ্চাৎ
  • ঠোঁট: গোলাকার
  • উচ্চারণ: জিভ পেছনে মাঝামাঝি, ঠোঁট গোল।
  • উদাহরণ: ওষুধ, বোন, কোন।

উ (u)

  • জিভের উচ্চতা: উচ্চ
  • জিভের অবস্থান: পশ্চাৎ
  • ঠোঁট: গোলাকার
  • উচ্চারণ: জিভ পেছনে উঁচু, ঠোঁট গোল হয়ে সামনে আসে।
  • উদাহরণ: উলু, ফুল, কুল।

ঊ (uː)

  • জিভের উচ্চতা: উচ্চ
  • জিভের অবস্থান: পশ্চাৎ
  • ঠোঁট: গোলাকার
  • উচ্চারণ: ‘উ’-এর দীর্ঘ রূপ।
  • উদাহরণ: ঊষা, চূড়া, দূর।

ঋ (ri)

  • জিভের উচ্চতা: মধ্য
  • জিভের অবস্থান: কেন্দ্রীয়
  • ঠোঁট: অগোলাকার
  • উচ্চারণ: প্রাচীন বাংলায় ‘রি’-এর মতো, এখন অনেক স্থানে ‘রি’ উচ্চারিত।
  • উদাহরণ: ঋষি, কৃপা, ঋণ।

ঐ (oi)

  • জিভের উচ্চতা: মধ্য
  • জিভের অবস্থান: সম্মুখ → পশ্চাৎ (যৌগিক)
  • ঠোঁট: অগোলাকার → গোলাকার
  • উচ্চারণ: ‘অ’ থেকে ‘ই’-এর দিকে সরে যায়।
  • উদাহরণ: ঐক্য, মৈত্রী, নৈতিক।

ঔ (ou)

  • জিভের উচ্চতা: মধ্য
  • জিভের অবস্থান: পশ্চাৎ (যৌগিক)
  • ঠোঁট: গোলাকার
  • উচ্চারণ: ‘অ’ থেকে ‘উ’-এর দিকে সরে যায়।
  • উদাহরণ: ঔষধ, কৌশল, সৌভাগ্য।

৪. হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরধ্বনির উচ্চারণ পার্থক্য (Short vs Long Vowels)

হ্রস্ব স্বরধ্বনি (Short Vowels)

  • উচ্চারণে কম সময় লাগে।
  • তালিকা: অ, ই, উ, ঋ, এ, ও
  • ব্যাখ্যা: এই স্বরগুলো দ্রুত উচ্চারিত হয়; যেমন— ‘অ’ এক মাত্রায়, ‘ই’ এক মাত্রায়।
  • উদাহরণ: অলস, দিন, কুল, ঋণ, এক, ওষুধ।

দীর্ঘ স্বরধ্বনি (Long Vowels)

  • উচ্চারণে বেশি সময় লাগে।
  • তালিকা: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ
  • ব্যাখ্যা: এই স্বরগুলো টেনে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চারিত হয়; যেমন— ‘আ’ দুই মাত্রা।
  • উদাহরণ: আম, নদী, চূড়া, দেশ, ঐক্য, ওষুধ, ঔষধ।

মনে রাখার কৌশল:

“হ্রস্ব ছোট, দীর্ঘ বড়; এ ও ও দুই দলেই পড়ে।”


🧠 গ্রামাটিক্যাল ব্যাখ্যা ও মনে রাখার কৌশল (Rules & Tricks)

Trick 1: জিভের অবস্থান মনে রাখার ছড়া

“ই ঈ এ ঐ—সামনে,
আ—মাঝে,
অ উ ঊ ও ঔ—পেছনে।”

Trick 2: জিভের উচ্চতা মনে রাখার কৌশল

“ই, উ উঁচু; এ, ও মাঝ; আ একদম নিচু।”

Trick 3: ঠোঁটের আকৃতি মনে রাখার ছড়া

“উ ঊ ও ঐ—ঠোঁট গোল,
বাকি সব অগোল।”

Trick 4: স্বরধ্বনি উচ্চারণের তিন স্তম্ভ

“জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থান, ঠোঁটের আকৃতি—
এই তিনে স্বরধ্বনির জাত চেনা যায়।”

⚠️ ভুল যেখানে হয় (Common Mistakes)

  1. ‘অ’ কে গোলাকার ভাবা: ‘অ’ আসলে অগোলাকার; ‘ও’ গোলাকার।
  2. ‘ঐ’ কে অগোলাকার ভাবা: উচ্চারণ শেষে ঠোঁট গোল হয়, তাই ‘ঐ’ গোলাকার।
  3. ‘এ’ ও ‘ও’ কে কেবল হ্রস্ব বা দীর্ঘ ভাবা: এরা উভয় রূপে ব্যবহৃত হয়।
  4. ‘আ’ কে সম্মুখ বা পশ্চাৎ ভাবা: ‘আ’ কেন্দ্রীয় স্বর।
  5. ‘ঋ’ কে ব্যঞ্জন ভাবা: ‘ঋ’ স্বরধ্বনি, তবে উচ্চারণে ‘রি’-এর মতো।

📊 উদাহরণ সহ টেবিল (Examples with Explanation)

টেবিল ১: স্বরধ্বনির উচ্চারণ সংক্রান্ত উদাহরণ (৩০টি)

স্বরধ্বনিশব্দের উদাহরণব্যাখ্যা (কেন এভাবে উচ্চারিত হয়?)
ইইদ, দিন, কিজিভ সামনে উঁচু, ঠোঁট চ্যাপ্টা। [BCS 44th]
ঈঈগল, নদী, চীন‘ই’-এর দীর্ঘ রূপ, জিভ সামনে উঁচু।
এএক, দেশ, বেলজিভ সামনে মাঝামাঝি, ঠোঁট চ্যাপ্টা।
অ্যাঅ্যালবাম, ক্যাম্প, ট্যাকজিভ সামনে নিচু, মুখ খোলা।
আআম, কাল, ভাতজিভ মাঝে নিচু, মুখ পুরো খোলা।
অঅমৃত, কলম, জলজিভ পেছনে নিচু-মাঝ, ঠোঁট চ্যাপ্টা।
ওওষুধ, বোন, কোনজিভ পেছনে মাঝ, ঠোঁট গোল। [Primary 2023]
উউলু, ফুল, কুলজিভ পেছনে উঁচু, ঠোঁট গোল।
ঊঊষা, চূড়া, দূর‘উ’-এর দীর্ঘ রূপ, ঠোঁট গোল।
ঋঋষি, কৃপা, ঋণজিভ মাঝে, ‘রি’-এর মতো উচ্চারিত।
ঐঐক্য, মৈত্রী, নৈতিক‘অ’ থেকে ‘ই’ দিকে সরে যায়। [SSC 2022]
ঔঔষধ, কৌশল, সৌভাগ্য‘অ’ থেকে ‘উ’ দিকে সরে যায়।
ই + উকি + উ = কিউসম্মুখ উঁচু থেকে পশ্চাৎ উঁচু যাওয়া।
আ + ইআ + ই = আয়কেন্দ্রীয় নিম্ন থেকে সম্মুখ উঁচু যাওয়া।
অ + উঅ + উ = ঔপশ্চাৎ নিম্ন থেকে পশ্চাৎ উঁচু যাওয়া।
হ্রস্ব অঅলসএক মাত্রায় দ্রুত।
দীর্ঘ আআলসদুই মাত্রায় ধীর।
হ্রস্ব ইইতিএক মাত্রায় দ্রুত।
দীর্ঘ ঈঈদদুই মাত্রায় ধীর।
গোল ওওজনঠোঁট গোল।
অগোল এএলোঠোঁট চ্যাপ্টা।
সম্মুখ ইইশারাজিভ সামনে।
পশ্চাৎ উউপায়জিভ পেছনে।
কেন্দ্রীয় আআলোজিভ মাঝে।
উচ্চ ইইঁদুরজিভ উঁচু।
নিম্ন আআকাশজিভ নিচু।
মধ্য এএকতাজিভ মাঝ।
গোল উউত্তরঠোঁট গোল।
অগোল আআদরঠোঁট চ্যাপ্টা।
দীর্ঘ ঔঔদার্যযৌগিক, দীর্ঘ।

টেবিল ২: স্বরধ্বনি উচ্চারণের উপাদানভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ (সংক্ষিপ্ত)

উপাদানশ্রেণিস্বরধ্বনি
জিভের উচ্চতাউচ্চই, ঈ, উ, ঊ
জিভের উচ্চতামধ্যএ, ঐ, ও, ঔ, ঋ
জিভের উচ্চতানিম্নআ, অ্যা, অ
জিভের অবস্থানসম্মুখই, ঈ, এ, ঐ, অ্যা
জিভের অবস্থানকেন্দ্রীয়আ
জিভের অবস্থানপশ্চাৎঅ, উ, ঊ, ও, ঔ
ঠোঁটের আকৃতিগোলাকারউ, ঊ, ও, ঐ
ঠোঁটের আকৃতিঅগোলাকারঅ, আ, ই, ঈ, এ, ঋ, ঔ

✍️ অনুশীলনী (Exercise)

A) বিগত সালের প্রশ্ন (MCQ)

১। কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ সামনে থাকে? [BCS 44th]
ক) অ
খ) উ
গ) ই
ঘ) ও

২। উচ্চ স্বরধ্বনি কোনটি? [Primary 2023]
ক) আ
খ) উ
গ) অ
ঘ) এ

৩। কোনটি গোলাকার স্বরধ্বনি? [SSC 2022]
ক) আ
খ) এ
গ) ও
ঘ) ই

৪। ‘আ’ উচ্চারণে জিভ কোথায় থাকে?
ক) সামনে
খ) পেছনে
গ) মাঝে
ঘ) উপরে

৫। নিচের কোনটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
ক) ই
খ) এ
গ) অ্যা
ঘ) উ

৬। ‘ঐ’ উচ্চারণে ঠোঁট কেমন হয়?
ক) চ্যাপ্টা
খ) গোল
গ) বন্ধ
ঘ) খোলা

৭। নিম্ন স্বরধ্বনি কোনটি?
ক) ই
খ) উ
গ) আ
ঘ) এ

৮। ‘অ’ উচ্চারণে ঠোঁট কেমন থাকে?
ক) গোল
খ) চ্যাপ্টা
গ) অর্ধগোল
ঘ) বন্ধ

৯। হ্রস্ব স্বরধ্বনি কোনটি?
ক) আ
খ) ঈ
গ) উ
ঘ) ঔ

১০। ‘ঔ’ কীভাবে উচ্চারিত হয়?
ক) অ + ই
খ) অ + উ
গ) আ + উ
ঘ) এ + উ

১১। কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ সবচেয়ে উঁচুতে থাকে?
ক) ই
খ) এ
গ) অ
ঘ) আ

১২। ‘এ’ কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
ক) উচ্চ
খ) মধ্য
গ) নিম্ন
ঘ) অতিনিম্ন

১৩। কোনটি দীর্ঘ স্বরধ্বনি?
ক) অ
খ) ই
গ) ঋ
ঘ) আ

১৪। ‘ও’ স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট—
ক) চ্যাপ্টা
খ) গোল
গ) বন্ধ
ঘ) খোলা

১৫। বাংলা স্বরধ্বনি উচ্চারণের প্রধান উপাদান নয় কোনটি?
ক) জিভের উচ্চতা
খ) জিভের অবস্থান
গ) দাঁতের আকার
ঘ) ঠোঁটের আকৃতি

B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Questions)

১। স্বরধ্বনির উচ্চারণ কাকে বলে?
উত্তর: মুখবিবরে জিভ ও ঠোঁটের বিভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে স্বরধ্বনিকে ভিন্নভাবে উচ্চারণ করার প্রক্রিয়াকে স্বরধ্বনির উচ্চারণ বলে। এতে বাতাস কোথাও বাধা পায় না।

২। স্বরধ্বনি উচ্চারণের তিনটি প্রধান উপাদান কী কী?
উত্তর:
১) জিভের উচ্চতা (উচ্চ, মধ্য, নিম্ন)
২) জিভের সামনে-পেছনে অবস্থান (সম্মুখ, কেন্দ্রীয়, পশ্চাৎ)
৩) ঠোঁটের আকৃতি (গোলাকার, অগোলাকার)

৩। সম্মুখ ও পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ সামনের দিকে থাকে, তাকে সম্মুখ স্বরধ্বনি বলে (ই, ঈ, এ, ঐ)। যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ পেছনের দিকে থাকে, তাকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলে (অ, উ, ঊ, ও, ঔ)।

৪। গোলাকার ও অগোলাকার স্বরধ্বনি কী কী?
উত্তর: গোলাকার স্বরধ্বনি: উ, ঊ, ও, ঐ (ঠোঁট গোল হয়)। অগোলাকার স্বরধ্বনি: অ, আ, ই, ঈ, এ, ঋ, ঔ (ঠোঁট চ্যাপ্টা থাকে)।

৫। হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরধ্বনির উচ্চারণে পার্থক্য কী?
উত্তর: হ্রস্ব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে (অ, ই, উ, ঋ, এ, ও); দীর্ঘ স্বরধ্বনি উচ্চারণে বেশি সময় লাগে (আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ)।

৬। ‘ই’ ও ‘উ’ উচ্চারণের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ‘ই’ উচ্চারণে জিভ সামনে উঁচু হয় এবং ঠোঁট চ্যাপ্টা থাকে; ‘উ’ উচ্চারণে জিভ পেছনে উঁচু হয় এবং ঠোঁট গোল হয়।

৭। ‘ঐ’ ও ‘ঔ’ কীভাবে উচ্চারিত হয়?
উত্তর: ‘ঐ’ = অ + ই, অর্থাৎ ‘অ’-এর অবস্থান থেকে ‘ই’-এর দিকে সরে গিয়ে উচ্চারিত হয়। ‘ঔ’ = অ + উ, অর্থাৎ ‘অ’-এর অবস্থান থেকে ‘উ’-এর দিকে সরে গিয়ে উচ্চারিত হয়।

C) উত্তরমালা (Answer Key with Explanation)

১. গ) ই
ব্যাখ্যা: ‘ই’ উচ্চারণে জিভ সামনে থাকে।

২. খ) উ
ব্যাখ্যা: ‘উ’ উচ্চারণে জিভ উঁচু হয়।

৩. গ) ও
ব্যাখ্যা: ‘ও’ উচ্চারণে ঠোঁট গোল হয়।

৪. গ) মাঝে
ব্যাখ্যা: ‘আ’ কেন্দ্রীয় স্বর, জিভ মাঝে থাকে।

৫. ঘ) উ
ব্যাখ্যা: ‘উ’ পশ্চাৎ স্বর।

৬. খ) গোল
ব্যাখ্যা: ‘ঐ’ উচ্চারণ শেষে ঠোঁট গোল হয়।

৭. গ) আ
ব্যাখ্যা: ‘আ’ নিম্ন স্বর, জিভ নিচে থাকে।

৮. খ) চ্যাপ্টা
ব্যাখ্যা: ‘অ’ অগোলাকার, ঠোঁট চ্যাপ্টা।

৯. গ) উ
ব্যাখ্যা: ‘উ’ হ্রস্ব স্বর, এক মাত্রায় উচ্চারিত।

১০. খ) অ + উ
ব্যাখ্যা: ‘ঔ’ যৌগিক স্বর, অ+উ মিলে।

১১. ক) ই
ব্যাখ্যা: ‘ই’ উচ্চ স্বর, জিভ সবচেয়ে উঁচুতে।

১২. খ) মধ্য
ব্যাখ্যা: ‘এ’ মধ্য স্বর।

১৩. ঘ) আ
ব্যাখ্যা: ‘আ’ দীর্ঘ স্বর।

১৪. খ) গোল
ব্যাখ্যা: ‘ও’ গোলাকার।

১৫. গ) দাঁতের আকার
ব্যাখ্যা: দাঁতের আকার স্বরধ্বনি উচ্চারণের প্রধান উপাদান নয়।


❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: স্বরধ্বনি উচ্চারণে বাধা থাকে কি?
উত্তর: না। স্বরধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা পায় না; কেবল জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান পরিবর্তিত হয়।

প্রশ্ন ২: ‘অ’ এবং ‘ও’ উচ্চারণে পার্থক্য কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: ‘অ’ উচ্চারণে ঠোঁট চ্যাপ্টা থাকে এবং জিভ পেছনে কিছুটা নিচু; ‘ও’ উচ্চারণে ঠোঁট গোল হয় এবং জিভ পেছনে মাঝামাঝি থাকে।

প্রশ্ন ৩: ‘ঐ’ কি গোলাকার নাকি অগোলাকার?
উত্তর: ‘ঐ’ যৌগিক; উচ্চারণের শেষে ঠোঁট গোল হয়, তাই এটিকে গোলাকার ধরা হয়।

প্রশ্ন ৪: স্বরধ্বনির উচ্চারণে ‘জিভের উচ্চতা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জিভ মুখের ভেতরে কতটা উঁচুতে বা নিচে থাকে, তাকে জিভের উচ্চতা বলে। এর ভিত্তিতে স্বরকে উচ্চ (ই, উ), মধ্য (এ, ও) ও নিম্ন (আ) ভাগ করা হয়।


🏁 উপসংহার (Conclusion)

প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ আমরা স্বরধ্বনির উচ্চারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। মনে রাখার মূল সূত্র:

“জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থান, ঠোঁটের আকৃতি—এই তিনে স্বর চেনা যায়।”
“ই-এ-অ্যা সামনে, আ মাঝে, উ-ও পেছনে; উ-ও ঠোঁট গোল, বাকি চ্যাপ্টা।”

এই ট্রিকসগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষায় স্বরধ্বনির উচ্চারণ থেকে আসা সব প্রশ্নে আপনি পূর্ণ নম্বর পাবেন। উচ্চারণ শুদ্ধ হোক, সাফল্য আসবেই।

লেখক: ToLearnTeam.com শিক্ষা বিভাগ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply